০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়ে আইনগত বৈধতা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে কিশোরীকে বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে তা মীমাংসার জন্য নন্দুরা বাজারে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, “আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আছে। আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।” ভিডিওতে তাকে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।

এ বিষয়ে জেলা এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ধর্ষণ বা এ ধরনের অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার বিচার সালিশে নয়, আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত।

সালিশে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকায় এলাকাবাসী বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলে তারা জেনেছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে রিপন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

আপডেট: ০৪:৩৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নিয়ে আইনগত বৈধতা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে কিশোরীকে বাড়ির পেছনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে তা মীমাংসার জন্য নন্দুরা বাজারে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে রিপন মিয়াকে বলতে শোনা যায়, “আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আছে। আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।” ভিডিওতে তাকে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।

এ বিষয়ে জেলা এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ধর্ষণ বা এ ধরনের অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার বিচার সালিশে নয়, আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত।

সালিশে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। তাদের মামলা পরিচালনার সামর্থ্য না থাকায় এলাকাবাসী বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলে তারা জেনেছেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে রিপন মিয়া আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”