যশোরের শার্শায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ‘আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত’ কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ (বুধবার) রাতে শার্শা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন ২০২৬ খ্রিঃ রাত অনুমান ১:০০ ঘটিকার সময় শার্শা থানাধীন শার্শা গ্রামস্থ আফিল জুট মিলের স্টাফ কোয়ার্টারের ২৪ নম্বর রুমে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মামলার বাদী মোছাঃ কেয়া খাতুন (২৮) রুমে ছিলেন না। এই সুযোগে অভিযুক্ত কিশোর মোঃ তামিম ইকবাল (১৬) মিথ্যা কথা বলে বাদীনির ১১ বছরের মেয়ে আজনিয়াকে দিয়ে রুমের দরজা খোলায়।
পরবর্তীতে তামিম তার কাছে থাকা গামছা দিয়ে শিশুটির মুখ বেঁধে তাকে নিজের শয়নকক্ষে নিয়ে যায় এবং কু-প্রস্তাব দেয়। শিশুটি রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে খাটের উপর শুইয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নির্যাতিতা শিশুটি তার মায়ের কাছে বিস্তারিত খুলে বললে, বাদী আজ ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ আইনী সহায়তার জন্য শার্শা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেন। উক্ত এজাহারের প্রেক্ষিতে শার্শা থানায় একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়।
মামলা রুজু হওয়ার পরপরই যশোরের সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয় ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তকে দ্রুত হেফাজতে নেওয়ার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শার্শা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই (নিঃ) আশীষ সরকারের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ মোস্তাক আহামেদসহ সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিম তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। মামলা দায়েরের মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ রাত ০১:৪৫ ঘটিকার সময় ঘটনাস্থল (আফিল জুট মিলের স্টাফ কোয়ার্টারের ২৪ নং রুম) থেকেই অভিযুক্ত কিশোর মোঃ তামিম ইকবালকে পুলিশ হেফাজতে গ্রহণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত কিশোর মোঃ তামিম ইকবাল শার্শা থানার গোগা (বাজার সংলগ্ন) গ্রামের হারুন অর রশিদ ও মোছাঃ তাসলিমা বেগমের ছেলে।
শার্শা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত উক্ত শিশুকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই দ্রুত আইনগত পদক্ষেপের ফলে এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে।




















