সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত মামলায় আট আসামির মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়ে বেলা ১টা ৫৩ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।
আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আইনুদ্দিন আইনুল, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আটজন আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের রায়ে প্রাথমিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার আট আসামিই তৎকালীন ছাত্রলীগের কর্মী বা সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাদের কারও ছাত্রলীগের আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক পদ ছিল বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। সে সময় এমসি কলেজ, সিলেট মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তারা স্থানীয় পর্যায়ে সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২০ সালে সিলেট-তামাবিল সড়কের পাশে অবস্থিত এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যান এক নবদম্পতি। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ ফটকের সামনে থেকে কয়েকজন যুবক তাদের জোরপূর্বক ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং এমসি কলেজের এক অধ্যাপকসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।




















