০৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

কেশবপুরে প্রকাশ্যেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৩

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মো. নজরুল ইসলাম নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভূমি অফিসে কর্মরত বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও একটি নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন করতে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া খাজনা, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রেও ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সেবাগ্রহীতা মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি দলিলের খারিজের জন্য তার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দুটি দলিলের জন্য মোট ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।

আরেক ভুক্তভোগী শরিফুল রকি অভিযোগ করেন, দত্তনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রেও প্রতি ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করলে আরও অনেক অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

ইস্রাফিল হোসেন নামে আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, তিনি ১ হাজার টাকা খাজনা পরিশোধ করলেও তাকে মাত্র ২২০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন চলে আসছে। নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক সময় ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা সেবা পেতে বিলম্ব করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অনেক আগের। তখন হাতে দাখিলা কেটে চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে সরকারি টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। সেই সময়ের টাকা গ্রহণের দৃশ্যই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

কেশবপুরে প্রকাশ্যেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল

কেশবপুরে প্রকাশ্যেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট: ০৭:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দিতে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মো. নজরুল ইসলাম নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভূমি অফিসে কর্মরত বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও একটি নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন করতে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া খাজনা, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবার ক্ষেত্রেও ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

সেবাগ্রহীতা মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি দলিলের খারিজের জন্য তার কাছে ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দুটি দলিলের জন্য মোট ৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন।

আরেক ভুক্তভোগী শরিফুল রকি অভিযোগ করেন, দত্তনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রেও প্রতি ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করলে আরও অনেক অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

ইস্রাফিল হোসেন নামে আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, তিনি ১ হাজার টাকা খাজনা পরিশোধ করলেও তাকে মাত্র ২২০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন চলে আসছে। নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক সময় ফাইল আটকে রাখা হয় কিংবা সেবা পেতে বিলম্ব করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অনেক আগের। তখন হাতে দাখিলা কেটে চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে সরকারি টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। সেই সময়ের টাকা গ্রহণের দৃশ্যই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী মেশকাতুল ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।