রাজধানীর গুলশানে জালিয়াতির মাধ্যমে ২৭ কাঠা সরকারি পরিত্যক্ত প্লট আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ এই দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম, প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামু উপজেলার বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তাঁর ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক ও তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন, নুরুল হক, রহমান ভুঁইয়া এবং মাহবুবুল হক।
আসামি মাহবুবুল হকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ২০ মে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন।
আদালতের আদেশ ঘোষণার সময় সালাম মুর্শেদীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা ১০ জন আসামিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এক আসামি সময়ের আবেদন করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অপরদিকে, সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালতে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর সড়কের সিইএন (ডি)-২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯ সরকারি পরিত্যক্ত প্লটটি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গেজেটে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত প্লটটির অবমুক্তকরণ ছাড়াই জাল নথিপত্র তৈরি করে পরবর্তীতে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে হস্তান্তর অনুমোদন ও নামজারির ব্যবস্থা করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এরপর ওই প্লটের ভোগদখলে ছিলেন সালাম মুর্শেদী।




















