০৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই কর্মকর্তা চাকরির প্রায় ১২ বছরের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলতাফ হোসেন ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রশাসনিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়মের বাইরে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বেতন কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের একটি অংশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ফাইল নিষ্পত্তিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে, সম্প্রতি তাকে প্রশাসনিকভাবে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের দাবি, বদলি আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চলছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে তিনি ওই কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক বা সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, প্রশাসনিক অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ

আপডেট: ০৬:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে স্বল্প সময়ের চাকরি জীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এই কর্মকর্তা চাকরির প্রায় ১২ বছরের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আলতাফ হোসেন ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রশাসনিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়মের বাইরে দীর্ঘ সময় একই পদে বহাল ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির বেতন কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, জমি ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনকালে ব্যবসায়ী ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের একটি অংশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ফাইল নিষ্পত্তিতে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে, সম্প্রতি তাকে প্রশাসনিকভাবে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কাস্টমস সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের দাবি, বদলি আদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির চলছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে তিনি ওই কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক বা সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে মনে করছেন, আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সম্পদ, প্রশাসনিক অনিয়ম ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।