১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫৬০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তি হানিফ শেখ (৩০)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের রফিক শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের মেয়ে। তারা ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভবনের মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোরে স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সুমি একটি ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করেন।

হানিফ শেখের চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত নারীকে আটক রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জাহিদ দাবি করেন, হানিফ শেখের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তার একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো।

অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি পুলিশের কাছে দাবি করেন, তার স্বামী তিনটি বিয়ে করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। তার অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে স্বামী তাকে মশার কয়েলের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ করতেন। এসব নির্যাতনের কারণেই তিনি ওই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।

তবে অভিযুক্তের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী আটক

আপডেট: ১০:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) ভোরে ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তি হানিফ শেখ (৩০)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের রফিক শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের মেয়ে। তারা ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভবনের মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোরে স্বামী ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সুমি একটি ব্লেড দিয়ে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করেন।

হানিফ শেখের চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত নারীকে আটক রেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জাহিদ দাবি করেন, হানিফ শেখের একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে তার একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো।

অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তার সুমি পুলিশের কাছে দাবি করেন, তার স্বামী তিনটি বিয়ে করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। তার অভিযোগ, প্রতিবাদ করলে স্বামী তাকে মশার কয়েলের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ করতেন। এসব নির্যাতনের কারণেই তিনি ওই কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।

তবে অভিযুক্তের এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।