০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নওগাঁয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান পার্টির তাণ্ডব: মূল হোতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৫১০

নওগাঁ শহরে কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে মানুষকে অচেতন করে লুটপাট এবং এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ গলানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন গভীর রাতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের মো. কালাম।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকায় ৭০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমকে রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে অচেতন করে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নেয় প্রতারক চক্র। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়।

একই দিন প্রথম ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বয়স্ক দম্পতিকে নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রলোভন এবং সম্মোহনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয় একই চক্র। এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ স্বর্ণপট্টির ‘মুহিব জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হেফাজত থেকে গলানো অবস্থায় প্রায় ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধী এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্যও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

পুলিশের দাবি, এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণা ও লুটপাটের শিকার না হন।

সর্বাধিক পঠিত

৪ জুলাই বেনাপোলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন আশা

নওগাঁয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান পার্টির তাণ্ডব: মূল হোতাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার,

আপডেট: ০৩:৪২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নওগাঁ শহরে কথিত ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে মানুষকে অচেতন করে লুটপাট এবং এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ গলানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুন গভীর রাতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—গাইবান্ধার বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই, মো. এরশাদ আলী, বাবলু এবং দিনাজপুরের মো. কালাম।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ জুন নওগাঁ শহরের চুরিপট্টি এলাকায় ৭০ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমকে রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে অচেতন করে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটে নেয় প্রতারক চক্র। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়।

একই দিন প্রথম ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বয়স্ক দম্পতিকে নকল স্বর্ণের বার দেখিয়ে প্রলোভন এবং সম্মোহনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেয় একই চক্র। এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা দ্বিতীয় ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ স্বর্ণপট্টির ‘মুহিব জুয়েলার্স’-এর ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হেফাজত থেকে গলানো অবস্থায় প্রায় ৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধী এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্যও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

পুলিশের দাবি, এ ধরনের সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণা ও লুটপাটের শিকার না হন।