০৭:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঝিকরগাছায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা:

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ৫০৬

যশোরের ঝিকরগাছার নাভারণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নতুন সরকার গঠনের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা দলটির বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা একঝাঁক অস্ত্রধারী ক্যাডার নাভারণের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে এসে অবস্থান নিয়েছে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:

 ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি (রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের মৃত হাকিম শিকদারের ছেলে)।এলাকায় চোর-ডাকাতের সর্দার ও আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত (একই গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদের ছেলে)।: যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। নাভারণ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।: নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।: আওয়ামী লীগ ক্যাডার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চক্রটির ক্ষমতার প্রধান উৎস ছিলেন ঝিকরগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। তার ছত্রছায়ায় থেকে গোটা নাভারণ ইউনিয়নকে সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছিলেন কাশেম ও কালাম। সালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকায় সে সময় তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার সাহস ছিল না কারও।

এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে এই কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম মূলহোতা হিসেবে ভূমিকা রাখলেও তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো বর্তমানে তারা অভ্যুত্থানের পক্ষের স্থানীয় মানুষদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

“২০২৪ সালে কাশেম শিকদার ও তার ভাই রবি শিকদারের নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা আমার প্রায় ৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার আলীকে বুঝিয়ে দেয়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কাশেম ও তার ভাই এই অপকর্মটি করেছিল। আমি এর বিচার চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে যাদের অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া ছিলেন, তারা এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কৌশল হিসেবে কাশেম শিকদার দিনের বেলায় নিজের বাড়িতে থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই পার্শ্ববর্তী শার্শা উপজেলার ত্রিমোহিনী শ্যামলাগাছি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। অন্যদিকে, আবুল কালাম বর্তমানে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং প্রতি সন্ধ্যায় গ্রামের সিদ্দিকের চায়ের দোকানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক ও চক্রান্ত করছেন। পুলিশের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন,

“আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা:

ঝিকরগাছায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা:

আপডেট: ০৭:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছার নাভারণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নতুন সরকার গঠনের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা দলটির বেশ কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকা একঝাঁক অস্ত্রধারী ক্যাডার নাভারণের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে এসে অবস্থান নিয়েছে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:

 ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি (রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের মৃত হাকিম শিকদারের ছেলে)।এলাকায় চোর-ডাকাতের সর্দার ও আওয়ামী লীগ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত (একই গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদের ছেলে)।: যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। নাভারণ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক।: নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।: আওয়ামী লীগ ক্যাডার।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই চক্রটির ক্ষমতার প্রধান উৎস ছিলেন ঝিকরগাছার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। তার ছত্রছায়ায় থেকে গোটা নাভারণ ইউনিয়নকে সন্ত্রাসের রাজত্বে পরিণত করেছিলেন কাশেম ও কালাম। সালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি এবং চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকায় সে সময় তাদের বিরুদ্ধে টু-শব্দ করার সাহস ছিল না কারও।

এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে এই কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম মূলহোতা হিসেবে ভূমিকা রাখলেও তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। উল্টো বর্তমানে তারা অভ্যুত্থানের পক্ষের স্থানীয় মানুষদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

“২০২৪ সালে কাশেম শিকদার ও তার ভাই রবি শিকদারের নেতৃত্বে সশস্ত্র ক্যাডাররা আমার প্রায় ৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা হায়দার আলীকে বুঝিয়ে দেয়। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কাশেম ও তার ভাই এই অপকর্মটি করেছিল। আমি এর বিচার চাই।”

এলাকাবাসীর দাবি, কাশেম শিকদার ও আবুল কালাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিগত সরকারের আমলে যাদের অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকাছাড়া ছিলেন, তারা এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

কৌশল হিসেবে কাশেম শিকদার দিনের বেলায় নিজের বাড়িতে থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই পার্শ্ববর্তী শার্শা উপজেলার ত্রিমোহিনী শ্যামলাগাছি গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। অন্যদিকে, আবুল কালাম বর্তমানে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং প্রতি সন্ধ্যায় গ্রামের সিদ্দিকের চায়ের দোকানে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক ও চক্রান্ত করছেন। পুলিশের এমন নীরব ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন,

“আমি এই থানায় নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”