০১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৫১২

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় কর্মসংস্থানের বিষয়েও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়টিও আমি উত্থাপন করেছি।”

তিনি বলেন, উভয় দেশই একমত হয়েছে যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী। কর্মীদের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা ও নিয়োগ ব্যয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেছি।”

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনকে আমরা অত্যন্ত মূল্যায়ন করি।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক যৌথ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সর্বাধিক পঠিত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট: ১২:০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় কর্মসংস্থানের বিষয়েও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি, আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের পুনরায় নিয়োগের বিষয়টিও আমি উত্থাপন করেছি।”

তিনি বলেন, উভয় দেশই একমত হয়েছে যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী। কর্মীদের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা ও নিয়োগ ব্যয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যৌথ ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সংকট নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছি এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেছি।”

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সুসংহত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) যোগ দেওয়ার বিষয়েও আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংহতকরণ প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনকে আমরা অত্যন্ত মূল্যায়ন করি।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন দলিল স্বাক্ষর ও বিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”

এর আগে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনের পঞ্চম তলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আগে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক যৌথ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।