কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক স্বামী-স্ত্রী। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় সেই রোগী, যার কাছে মাদকের চালান পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
রোববার (২১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আয়েশা আক্তার ও জাগির হোসেন।
পুলিশ জানায়, জনসমাগমপূর্ণ সরকারি হাসপাতালকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল। এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম বিকেল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছালে তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়। পরে এআরটি সেন্টার এলাকায় রোগীদের আনাগোনার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে রাখা নীল প্যাকেটগুলো তল্লাশি করে ১৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ৯০ থেকে ১০০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল।
পুলিশের উপস্থিতিতেই উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো গণনা করে পুনরায় প্যাকেটজাত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, হাসপাতালের চিকিৎসাধীন জোবায়ের ওরফে ফরিদের কাছে এসব ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এসেছিল। তবে অভিযানের খবর পেয়ে জোবায়ের হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং এলাকা থেকে একটি সিএনজিযোগে স্বামী-স্ত্রী ইয়াবা নিয়ে সদর হাসপাতালের দিকে আসছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিকেল ৪টা থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরে হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে তাদের আটক করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা হাসপাতালের রোগী জোবায়ের ওরফে ফরিদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। তবে অভিযানের পর তাকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো সংঘবদ্ধ মাদকচক্র সক্রিয় রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। আটক দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, হাসপাতালের মতো জনবহুল স্থানকে ব্যবহার করে মাদক পাচারের একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















