১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাঁচটি উপজেলায় নেমে এসেছে পাহাড়ি ঢল। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট, কয়লা ডিপো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জনদুর্ভোগ।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ব্যাপক ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সদর উপজেলার উত্তর সুরমা এলাকার বড়বাজার, মঙ্গলকাটা ও আশপাশের এলাকায় ঢলের পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকার শতাধিক কয়লা ডিপো প্লাবিত হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ কয়লা পানিতে ভেসে গেছে। পাশাপাশি পাথরের স্তূপ বালুর নিচে চাপা পড়েছে। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। প্রবল স্রোতে হাওরবাংলা স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-শক্তিয়ারকলা অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে গেছে। এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, আগামী তিনদিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সুরমাসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে বর্তমানে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

আপডেট: ১০:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী পাঁচটি উপজেলায় নেমে এসেছে পাহাড়ি ঢল। এতে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, দোকানপাট, কয়লা ডিপো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জনদুর্ভোগ।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ব্যাপক ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ৮৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধির ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সদর উপজেলার উত্তর সুরমা এলাকার বড়বাজার, মঙ্গলকাটা ও আশপাশের এলাকায় ঢলের পানি প্রবেশ করায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও এলাকার শতাধিক কয়লা ডিপো প্লাবিত হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ কয়লা পানিতে ভেসে গেছে। পাশাপাশি পাথরের স্তূপ বালুর নিচে চাপা পড়েছে। অনেক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। প্রবল স্রোতে হাওরবাংলা স্কুলের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়েছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-শক্তিয়ারকলা অংশ প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে চলে গেছে। এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, আগামী তিনদিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সুরমাসহ জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে বর্তমানে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।