বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার সুযোগ যেকোনো ফুটবলারের জন্যই স্বপ্নের মতো। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন ইরাকের তরুণ মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল। ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হিসেবে পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এবং বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের ক্লাব এফসি উট্রেখটের হয়ে খেলা জিদান ইকবাল ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করলেও তার মা ইরাকি এবং বাবা পাকিস্তানি। নিজের দুই দেশের ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে তিনি বিশেষ ধরনের বুট পরে মাঠে নামেন, যার এক পাশে থাকে ইরাকের পতাকা এবং অন্য পাশে পাকিস্তানের পতাকা।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি শুধু ইরাকের প্রতিনিধিত্বই করছেন না, বরং ২৪ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ পাকিস্তানের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও হয়ে উঠেছেন গর্বের প্রতীক। কারণ পাকিস্তানের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কাউকে নিয়ে উচ্ছ্বাস করার সুযোগ এতদিন আসেনি।
জিদান নিজেও প্রথমে জানতেন না যে তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি তার বাবাকে বিষয়টি জানান এবং দুজনেই বিস্মিত হন।
এর আগেও ইতিহাস গড়েছিলেন জিদান। প্রথম ব্রিটিশ দক্ষিণ এশীয় ফুটবলার হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার কীর্তি গড়েন তিনি। তরুণ এই ফুটবলার মনে করেন, তার পথচলা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ধর্ম, বর্ণ বা ভৌগোলিক অবস্থান যাই হোক না কেন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কেউ বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
পাকিস্তানের ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বমঞ্চে জিদান ইকবালের উপস্থিতি দেশটির তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন আশা ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে। শুধু জিদানই নয়, এবারের বিশ্বকাপে ইরাক দলও পাকিস্তানি সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইরাক এবারের বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর আবারও মেক্সিকোর মাটিতে খেলবে দলটি। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে এবং সেনেগালের মতো শক্তিশালী দল।
তবে আন্ডারডগ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে নামলেও কোনো চাপ নিতে নারাজ জিদান ইকবাল। তার ভাষায়, “হারলে হারানোর কিছু নেই, কিন্তু একটি ম্যাচ জিততে পারলে পুরো বিশ্বকে চমকে দেওয়া সম্ভব।”
সূত্র : বিবিসি




















