১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বেনাপোলে গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধর করে রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

শাহাবুদ্দিন আহামেদ, বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাদীপুর গ্রামে গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মা ও তার মেয়েকে মারধর করে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাদীপুর গ্রামের মৃত মান্নানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তার কন্যা মাহফুজা খাতুনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করেন আনোয়ারা বেগমের দুই ছেলে রাসু ও নেদু। এ সময় অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মারধরের পর তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় তারা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমাকে প্রায়ই আমার ছেলেরা অকারণে মারধর করে। কোরবানির ঈদের পরও বড় ছেলে নেদু আমাকে মারধর করেছিল। গতকাল রাতেও ছোট ছেলে রাসু ও তার সহযোগীরা আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। যে বাড়িতে আমরা থাকি সেটি আমার বাবার বাড়ি। অথচ আমার নিজের ছেলেরাই এখন আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী কন্যা মাহফুজা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে বসবাস করছি। আমার একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। ভাই ও ভাবিরা তাকে পছন্দ করে না। সামান্য বিষয় নিয়েও আমার সন্তানকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার বুকের ওপর উঠে লাথি মারা হয়েছে, মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং আমার পাঁচটি অপারেশন হয়েছে। তারপরও নির্যাতন থামছে না। রাতে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি আমাদের হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও মানবিক মূল্যবোধবিরোধী উল্লেখ করে বলেন, নিজের গর্ভধারিণী মা ও বোনের ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, “গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রেরক: শাহাবুদ্দিন আহামেদ
বেনাপোল, শার্শা, যশোর
মোবাইল: ০১৪০২০৬৬৪৬২
তারিখ: ১০ জুন ২০২৬ ।

সর্বাধিক পঠিত

বাগেরহাটে কৃষক দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা,

বেনাপোলে গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধর করে রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

আপডেট: ০৮:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

শাহাবুদ্দিন আহামেদ, বেনাপোল প্রতিনিধি:

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাদীপুর গ্রামে গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মা ও তার মেয়েকে মারধর করে গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাদীপুর গ্রামের মৃত মান্নানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও তার কন্যা মাহফুজা খাতুনকে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধর করেন আনোয়ারা বেগমের দুই ছেলে রাসু ও নেদু। এ সময় অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মারধরের পর তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় তারা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমাকে প্রায়ই আমার ছেলেরা অকারণে মারধর করে। কোরবানির ঈদের পরও বড় ছেলে নেদু আমাকে মারধর করেছিল। গতকাল রাতেও ছোট ছেলে রাসু ও তার সহযোগীরা আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। যে বাড়িতে আমরা থাকি সেটি আমার বাবার বাড়ি। অথচ আমার নিজের ছেলেরাই এখন আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”

ভুক্তভোগী কন্যা মাহফুজা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি বাবার বাড়িতে বসবাস করছি। আমার একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। ভাই ও ভাবিরা তাকে পছন্দ করে না। সামান্য বিষয় নিয়েও আমার সন্তানকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে ও আমার মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার বুকের ওপর উঠে লাথি মারা হয়েছে, মাথার চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং আমার পাঁচটি অপারেশন হয়েছে। তারপরও নির্যাতন থামছে না। রাতে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি আমাদের হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও মানবিক মূল্যবোধবিরোধী উল্লেখ করে বলেন, নিজের গর্ভধারিণী মা ও বোনের ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, “গর্ভধারিণী মা ও বোনকে মারধরের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রেরক: শাহাবুদ্দিন আহামেদ
বেনাপোল, শার্শা, যশোর
মোবাইল: ০১৪০২০৬৬৪৬২
তারিখ: ১০ জুন ২০২৬ ।