আলমগীর হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হলে, সংশ্লিষ্ট মহল এটিকে একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবি। অভিযানে চোরাচালানকৃত বিদেশি পণ্যসহ একজনকে আটক করা হয় এবং অপর এক ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বিজিবির দাবি, পলাতক আসামি মো. ইকরামুল আলম পলাশের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, বিশেষ করে তার বোন জামাই মো. শিমুল হোসেন সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিজিবির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। স্থানীয়দের একটি অংশের ভাষ্য, মামলার পলাতক আসামির স্বার্থ রক্ষা এবং চলমান আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পারিবারিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়ে থাকতে পারে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানের সময় জব্দকৃত মালামালের মধ্যে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য ছিল, যা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। পুরো অভিযান আইনানুগভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে বিজিবির এক দায়িত্বশীল সদস্য বলেন, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত নির্যাতন, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার ভাষ্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল মামলার গতিপথ ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমন অভিযানের পর বিভিন্ন সময় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা নতুন নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে এ ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ বজায় থাকে।



















