১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্ব হারালেন যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৫৮১

 

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

ড. আনিসুর রহমান এর আগে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরে এবং সেখানে পোকার উপস্থিতিও দেখা যায়। নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। ফ্ল্যাটটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও আবর্জনায় ভরা। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফ্ল্যাটের নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই একজন বৃদ্ধ মায়ের এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন ও মৃত্যুকে নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনা সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। আইনে সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসব দায়িত্ব পালনের বিধানও রয়েছে।

নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিবারিক অবহেলার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী টিপু সুলতান আটক

মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের করুণ মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্ব হারালেন যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান

আপডেট: ০৮:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

 

রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, আনিসুর রহমানকে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

ড. আনিসুর রহমান এর আগে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশের তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরে এবং সেখানে পোকার উপস্থিতিও দেখা যায়। নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। ফ্ল্যাটটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও আবর্জনায় ভরা। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফ্ল্যাটের নাজুক ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই একজন বৃদ্ধ মায়ের এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন ও মৃত্যুকে নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও মায়ের মৃত্যুর ঘটনা সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। আইনে সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, চিকিৎসা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এসব দায়িত্ব পালনের বিধানও রয়েছে।

নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিবারিক অবহেলার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।