যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের পুনিয়ার বটতলা গ্রামে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুব-এর অনুসারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান-এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জয়রামপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত আব্দুল হালিমকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাদিকুল ইসলামের অভিযোগ, বিএনপি নেতা টিএস আইয়ুবের রাজনীতি করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মশিয়ার রহমানের বিরাগভাজন হয়ে আছেন। এর আগে একাধিকবার তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টিএস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিলের দিনও তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার বিকেলে জয়রামপুর গ্রামের কয়েকজনের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় মশিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাদিকুল।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মশিয়ার রহমান। তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে এক পক্ষ ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও সাদিকুলের পক্ষ জামায়াত-সমর্থিত অবস্থানে ছিল। সেই সময় থেকেই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এছাড়া ইবাদুল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার জের ধরে শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
মশিয়ার রহমান আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে শাহাজালাল আলম বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, নাড়িকেলবাড়িয়া হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে সাদিকুলের পক্ষ হাট পরিচালনা করছে, যা প্রতিপক্ষ মেনে নিতে না পারায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মতে, ওই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।











