সিলেটে বিস্কুট কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে যৌন নির্যাতন শেষে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। এই ঘটনায় সোমবার রাতে অভিযুক্ত প্রতিবেশী ‘চাচা’ জাকির হোসেনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাকির সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
গত ৬ মে সকালে বাড়ি থেকে বিস্কুট কিনতে বের হয়েছিল ছোট্ট শিশু ফাহিমা। এরপর আর সে বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা এলাকায় মাইকিং ও সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে একটি ব্যাগের ভেতর ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ফাহিমার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনা তদন্তে নেমে সোমবার রাতে অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানায়:
সে শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে যৌন নির্যাতন করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রমাণ লুকাতে লাশটি একটি ব্যাগে ভরে নির্জন পুকুরপাড়ে ফেলে দেয়। অভিযুক্তের দাবি, ঘটনার সময় সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।
জাকিরের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কান্দিগাঁও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার গভীর রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। উত্তেজিত জনতার একটি অংশ অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম বলেন:
অভিযুক্ত জাকির হোসেন নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাকে বর্তমানে থানা হাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশু ফাহিমার এই করুণ মৃত্যুতে পুরো সিলেট জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




















