০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

ঝিকরগাছার নাভারণে ফিরছে আ’লীগের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’, জনমনে চরম আতঙ্ক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫০৯

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ এলাকায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে এসব ব্যক্তি এলাকায় ফিরে এসে আগের মতোই প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছার ইসলামপুর গ্রামের এক বিএনপি নেতা এবং নাভারণ বাজার এলাকার বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন কাশেম শিকদার ও কামাল হোসেন সহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিতর্কিত নেতা-কর্মী। কাশেম শিকদার নাভারণ ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি এবং কামাল হোসেন একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব নেতার বিরুদ্ধে শালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ ছিল। তাদের পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের কাশেম শিকদার সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তার বড় ছেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াসিন শিকদার এবং ছোট ছেলে ইমরান শিকদার, যিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, নাশকতার মামলায় জামিনে থাকা ইমরান শিকদারসহ তাদের সহযোগীরা এলাকায় নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন। একই সঙ্গে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী আলাল উদ্দিনের নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে।

নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হারুনর রশিদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কামাল হোসেন ও হান্নু তার কাছ থেকে মাছের ঘের কাটার নামে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এখন তারা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে এসেছে। টাকা ফেরত না দিলে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমরা বাড়িছাড়া ছিলাম। হামলা-মামলা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন সেই সন্ত্রাসীরাই আবার এলাকায় ফিরে এসেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় তারা এলাকায় অবস্থান করছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই তিনি এলাকায় ফিরেছেন এবং বর্তমানে তার কোনো সমস্যা নেই।

অন্যদিকে ঝিকরগাছা থানা এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল বলেন, “খুব শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে। ঝিকরগাছায় কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না।”

ঝিকরগাছার নাভারণে ফিরছে আ’লীগের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’, জনমনে চরম আতঙ্ক

ঝিকরগাছার নাভারণে ফিরছে আ’লীগের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা’, জনমনে চরম আতঙ্ক

আপডেট: ০৭:২০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ এলাকায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আবার এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতা ও প্রশ্রয়ে এসব ব্যক্তি এলাকায় ফিরে এসে আগের মতোই প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছার ইসলামপুর গ্রামের এক বিএনপি নেতা এবং নাভারণ বাজার এলাকার বিএনপির এক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন কাশেম শিকদার ও কামাল হোসেন সহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিতর্কিত নেতা-কর্মী। কাশেম শিকদার নাভারণ ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি এবং কামাল হোসেন একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব নেতার বিরুদ্ধে শালিশ বাণিজ্য, জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ ছিল। তাদের পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের কাশেম শিকদার সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তার বড় ছেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্মী ইয়াসিন শিকদার এবং ছোট ছেলে ইমরান শিকদার, যিনি যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, নাশকতার মামলায় জামিনে থাকা ইমরান শিকদারসহ তাদের সহযোগীরা এলাকায় নিয়মিত মহড়া দিচ্ছেন। একই সঙ্গে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী আলাল উদ্দিনের নামও স্থানীয়দের অভিযোগে উঠে এসেছে।

নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হারুনর রশিদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কামাল হোসেন ও হান্নু তার কাছ থেকে মাছের ঘের কাটার নামে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, এখন তারা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে এলাকায় ফিরে এসেছে। টাকা ফেরত না দিলে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমরা বাড়িছাড়া ছিলাম। হামলা-মামলা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন সেই সন্ত্রাসীরাই আবার এলাকায় ফিরে এসেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, বিএনপির কিছু নেতার সহায়তায় তারা এলাকায় অবস্থান করছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই তিনি এলাকায় ফিরেছেন এবং বর্তমানে তার কোনো সমস্যা নেই।

অন্যদিকে ঝিকরগাছা থানা এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জালাল বলেন, “খুব শিগগিরই এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে। ঝিকরগাছায় কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না।”