যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অমান্য করে আদালত বর্জনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অ্যাডভোকেট রাজীব হোসেন নামে এক সদস্যকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ গফুর স্বাক্ষরিত এই নোটিশে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
যশোরের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির সাধারণ সভার এই সিদ্ধান্ত চলাকালীন গত ১০ মে অ্যাডভোকেট রাজীব হোসেন ওই আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশ নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজীব হোসেনের এই আচরণ সমিতির ঐক্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। নোটিশে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে সমিতির গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
*ধারা ১০ (ক) ও ১০ (খ):** গঠনতন্ত্রের এই ধারাগুলো মূলত সমিতির সাধারণ সিদ্ধান্ত মান্য করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।
*ধারা ৭০ (ক):** এই ধারার অধীনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট রাজীব হোসেন। তার দাবি, তিনি কোনো মামলার শুনানি বা পেশাগত কার্যক্রমে অংশ নেননি।
> “আমি কেবল একটি মামলার পরবর্তী তারিখ জানার জন্য আদালতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার উপস্থিতি ছিল ঠিকই, কিন্তু আমি মামলা পরিচালনা করিনি। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।”
এই ঘটনাটি মূলত পেশাজীবী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং ব্যক্তিগত পেশাগত অধিকারের মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। আইনজীবীদের এই ধরনের ‘বার বনাম বেঞ্চ’ (Bar vs Bench) দ্বন্দ্বে সাধারণত সাধারণ বিচারপ্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।
যেকোনো পেশাজীবী সংগঠনের শক্তি তার একতায়। সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করা হলে তা সংগঠনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। সমিতি যদি তথ্য-প্রমাণ পায় যে তিনি সত্যিই শুনানি করেছেন, তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া তাদের সাংগঠনিক অধিকার।
অভিযুক্ত আইনজীবী যদি কেবল তথ্য সংগ্রহ বা তারিখ জানার জন্য গিয়ে থাকেন, তবে ভিডিও ফুটেজ বা আদালতের হাজিরা (Attendance) খতিয়ান পরীক্ষা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তদন্তের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি যে কোনো ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে তাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে কি না।
আদালত বর্জনের মতো ঘটনা বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ ধরনের সংকটের সমাধান হওয়া কাম্য যাতে আইনজীবী ও বিচার বিভাগের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যায়।
শোকজের জবাব এবং পরবর্তী তদন্তই নির্ধারণ করবে এই ঘটনার চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।




















