০৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শিক্ষার আড়ালে জমি দখলের অভিযোগ, কেশবপুরে রাতারাতি কিন্ডারগার্টেন স্থাপন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে রাতারাতি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াল ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭২ নং আলতাপোল মৌজার ১৯২৭ খতিয়ানের অন্তর্গত ১১৪৮১ দাগের ৫৭ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন মঙ্গলকোট গ্রামের রাবেয়া বেগমের পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই যুগ আগে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দলবল নিয়ে ওই জমিতে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে “সবুজ শিক্ষা নিকেতন মঙ্গলকোট কিন্ডারগার্টেন” নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। তবে সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও খুবই কম বলে দাবি স্থানীয়দের।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তারা বাধা দিতে গেলে মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দোহাই দিয়ে জনসাধারণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হলেও মূল উদ্দেশ্য জমি স্থায়ীভাবে দখল করা।

জমির মালিক রাবেয়া বেগম বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমাদের কাছে বৈধ খতিয়ান, নামজারি এবং চলতি বছরের খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিজানুর রহমান লোকজন নিয়ে এসে আমার জমিতে স্কুলঘর নির্মাণ করেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, “জমি ফাঁকা পড়ে ছিল, তাই স্কুল করেছি।” তিনি দাবি করেন, এলাকার শিশুদের শিক্ষার প্রসারের স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ দলিল তিনি দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বজলু সরদার বলেন, “স্কুল হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু অন্যের জমি দখল করে নয়। এটি শিক্ষার নামে প্রতারণা।”

বর্তমানে জমিটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

শিক্ষার আড়ালে জমি দখলের অভিযোগ, কেশবপুরে রাতারাতি কিন্ডারগার্টেন স্থাপন

আপডেট: ০২:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি দখলের উদ্দেশ্যে রাতারাতি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়াল ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭২ নং আলতাপোল মৌজার ১৯২৭ খতিয়ানের অন্তর্গত ১১৪৮১ দাগের ৫৭ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন মঙ্গলকোট গ্রামের রাবেয়া বেগমের পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই যুগ আগে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দলবল নিয়ে ওই জমিতে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে “সবুজ শিক্ষা নিকেতন মঙ্গলকোট কিন্ডারগার্টেন” নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন। তবে সেখানে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও খুবই কম বলে দাবি স্থানীয়দের।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তারা বাধা দিতে গেলে মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দোহাই দিয়ে জনসাধারণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করা হলেও মূল উদ্দেশ্য জমি স্থায়ীভাবে দখল করা।

জমির মালিক রাবেয়া বেগম বলেন, “এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমাদের কাছে বৈধ খতিয়ান, নামজারি এবং চলতি বছরের খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিজানুর রহমান লোকজন নিয়ে এসে আমার জমিতে স্কুলঘর নির্মাণ করেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, “জমি ফাঁকা পড়ে ছিল, তাই স্কুল করেছি।” তিনি দাবি করেন, এলাকার শিশুদের শিক্ষার প্রসারের স্বার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জমির মালিকানা সংক্রান্ত কোনো বৈধ দলিল তিনি দেখাতে পারেননি।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বজলু সরদার বলেন, “স্কুল হওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু অন্যের জমি দখল করে নয়। এটি শিক্ষার নামে প্রতারণা।”

বর্তমানে জমিটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।