০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আবাসন ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে পালানোর সময় ডিএমডি গ্রেফতার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৫৮৬

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রবিবার ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ।

সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব থানা-এ দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের মাধ্যমে উত্তরখান থানার কাছাকাছি ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলাবিশিষ্ট (জি+৯) চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেখিয়ে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালানো হয়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা।

এই প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর ৪-এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার জন্য টাকা জমা দেন। মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাদীর এক বন্ধু একই প্রকল্পে আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও গ্রাহকদের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন কিংবা প্রকল্প বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দিত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক নোটিশে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের দায়ভার তারা নেবে না।

সিআইডি জানায়, তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

আবাসন ব্যবসার নামে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে পালানোর সময় ডিএমডি গ্রেফতার

আপডেট: ০৯:৫৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড-এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রবিবার ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ।

সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব থানা-এ দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেডের মাধ্যমে উত্তরখান থানার কাছাকাছি ১০ কাঠা জমির ওপর ৯ তলাবিশিষ্ট (জি+৯) চার ইউনিটের একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেখিয়ে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালানো হয়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা।

এই প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর ৪-এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার জন্য টাকা জমা দেন। মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন। এ সময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাদীর এক বন্ধু একই প্রকল্পে আরও ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও গ্রাহকদের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন কিংবা প্রকল্প বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও বিভিন্ন মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে প্রায় ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দিত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং নতুন একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক নোটিশে বলা হয়, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের দায়ভার তারা নেবে না।

সিআইডি জানায়, তদন্তে হায়দার কবির মিথুনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাতের কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ রেখে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।