০৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

ভাঙা হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে চার আঙুল হারালো শিশু আবিদ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:২৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫১০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভাঙা হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ডান হাতের চারটি আঙুল হারিয়েছে সাত বছরের শিশু আবিদ। বর্তমানে রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী আবিদ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হামিদপুর চিত্তিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক সোহেল রানা একই উপজেলার ফুলহার এলাকার হামিদের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের তিন দিন পর আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অটোভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয় আবিদ। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। সে সময় শিশুটির বাবা বাড়িতে না থাকায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঘোড়াঘাট পৌরশহরের আজাদমোড় ইসলামপুর মোড় এলাকার শর্মী মেডিকেল স্টোর-এ নিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে সোহেল রানা নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে শিশুটির হাতে প্লাস্টার করেন। পরিবারের দাবি, প্লাস্টার অত্যন্ত শক্ত করে বাঁধার কারণে হাত ফুলে যায় এবং ধীরে ধীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রংপুর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয় শিশুটিকে। শেষ পর্যন্ত বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি হাড় ভাঙা, জোড়া লাগানো এবং জয়েন্ট ডিসপ্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি প্রেসক্রিপশন প্যাডে ‘ডাক্তার’ পরিচয় ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা নিবন্ধন ছাড়াই তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং ওষুধ লিখে দিতেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি যথাযথভাবে প্লাস্টার করেছিলেন। পরে রোগীর পরিবার অন্যত্র নিয়ে যায় এবং কয়েক দিন পর ফের নিয়ে এলে তিনি হাতের অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন,
“স্বীকৃত ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ জানান, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিতর্কিত মন্তব্যের পর ক্ষমা চাইলেন বাউল শিল্পী হাসিনা সরকার

ভাঙা হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে চার আঙুল হারালো শিশু আবিদ

আপডেট: ০৬:২৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভাঙা হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে ডান হাতের চারটি আঙুল হারিয়েছে সাত বছরের শিশু আবিদ। বর্তমানে রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী আবিদ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হামিদপুর চিত্তিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক সোহেল রানা একই উপজেলার ফুলহার এলাকার হামিদের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের তিন দিন পর আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অটোভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয় আবিদ। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায়। সে সময় শিশুটির বাবা বাড়িতে না থাকায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঘোড়াঘাট পৌরশহরের আজাদমোড় ইসলামপুর মোড় এলাকার শর্মী মেডিকেল স্টোর-এ নিয়ে যান।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে সোহেল রানা নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে শিশুটির হাতে প্লাস্টার করেন। পরিবারের দাবি, প্লাস্টার অত্যন্ত শক্ত করে বাঁধার কারণে হাত ফুলে যায় এবং ধীরে ধীরে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে রংপুর এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয় শিশুটিকে। শেষ পর্যন্ত বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার ডান হাতের চারটি আঙুল কেটে ফেলতে বাধ্য হন।

স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি হাড় ভাঙা, জোড়া লাগানো এবং জয়েন্ট ডিসপ্লেসমেন্টসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি প্রেসক্রিপশন প্যাডে ‘ডাক্তার’ পরিচয় ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা নিবন্ধন ছাড়াই তিনি নিয়মিত রোগী দেখতেন এবং ওষুধ লিখে দিতেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তবে অভিযুক্ত সোহেল রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি যথাযথভাবে প্লাস্টার করেছিলেন। পরে রোগীর পরিবার অন্যত্র নিয়ে যায় এবং কয়েক দিন পর ফের নিয়ে এলে তিনি হাতের অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সোলায়মান মেহেদী হাসান বলেন,
“স্বীকৃত ডিগ্রি ও নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ জানান, অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।