০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সাবেক উপ-প্রেস সচিবের বিরুদ্ধে ‘চাপ প্রয়োগের’ অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫৩১

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্ট ও অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।

ফাঁস হওয়া অডিও এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট ঘিরে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী তারিক চয়ন-কে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে কিছু স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট করেন তারিক চয়ন। ওই পোস্টে তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে তারিক চয়নের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের অডিওতে তারিক চয়নকে বলতে শোনা যায়—

> “আপনি যেই গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলছেন, সেখানে কি বিএনপি অংশ নেয়নি? আমি নিজেও তো সেখানে অংশ নিয়েছি।”

এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তারিক চয়নকে “সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপের মুখেও নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সিনিয়র নেতা ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-র সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পরও তারিক চয়নকে ফোন করে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন—
> “সাংবাদিকের কলম থামাতে চাপ নয়, প্রয়োজন তথ্যের জবাব।”

আরেকজন মন্তব্য করেন—

> “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়লে গণতন্ত্রও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে আজাদ মজুমদারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এলে বিতর্কের অনেকাংশ পরিষ্কার হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিককে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংবেদনশীল সময়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

সাবেক উপ-প্রেস সচিবের বিরুদ্ধে ‘চাপ প্রয়োগের’ অভিযোগ

আপডেট: ১০:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্ট ও অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।

ফাঁস হওয়া অডিও এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট ঘিরে সাংবাদিক মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন ও অনলাইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী তারিক চয়ন-কে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৯ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে কিছু স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট করেন তারিক চয়ন। ওই পোস্টে তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে তারিক চয়নের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথোপকথনের অডিওতে তারিক চয়নকে বলতে শোনা যায়—

> “আপনি যেই গণ-অভ্যুত্থানের কথা বলছেন, সেখানে কি বিএনপি অংশ নেয়নি? আমি নিজেও তো সেখানে অংশ নিয়েছি।”

এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তারিক চয়নকে “সাহসী সাংবাদিকতার প্রতীক” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপের মুখেও নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও আলোচনা তীব্র হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপির সিনিয়র নেতা ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-র সঙ্গে একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পরও তারিক চয়নকে ফোন করে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন—
> “সাংবাদিকের কলম থামাতে চাপ নয়, প্রয়োজন তথ্যের জবাব।”

আরেকজন মন্তব্য করেন—

> “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়লে গণতন্ত্রও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে আজাদ মজুমদারের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এলে বিতর্কের অনেকাংশ পরিষ্কার হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিককে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংবেদনশীল সময়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।