০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

মে দিবসে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫১০

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংহতি ও ন্যায্যতার দাবির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের ঐতিহাসিক আন্দোলনে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী শ্রমিকদের স্মরণেই এ দিবসের সূচনা। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংগ্রামের চেতনাই এ দিবসের মূল বার্তা।

তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অনেক এগোলেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। উন্নয়নের আলোয় আলোকিত সমাজের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, বঞ্চনা ও কষ্টের গল্প আজও রয়ে গেছে। মহান মে দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা শ্রমিক অধিকার নিয়ে নিজেদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম বলেন, মে দিবসে শ্রমিকদের অবদানের কথা উচ্চারিত হলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। সমাজে তাদের কষ্ট ও অবদানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার কেয়া বলেন, পোশাক খাতে কিছু উন্নতি এলেও নির্মাণসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর তদারকি এবং মালিকপক্ষের আন্তরিকতা। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক এবারের মে দিবসের প্রধান অঙ্গীকার।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. যায়েদ হোসাইন বলেন, দেশের কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি দেশ-বিদেশের সকল শ্রমিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দৃষ্টি রাণী পোদ্দার নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, কর্মক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো যৌন হয়রানি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং অভিযোগ জানাতে অনীহা বা ভয় বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি নারী শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ, সহায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মে দিবসের চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন দেশের প্রতিটি শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতভাবে ভোগ করতে পারবেন।

সর্বাধিক পঠিত

কারাগার থেকে গৃহবন্দী সু চি?

মে দিবসে যবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হোক

আপডেট: ০৪:২৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবস প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংহতি ও ন্যায্যতার দাবির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের ঐতিহাসিক আন্দোলনে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আত্মোৎসর্গকারী শ্রমিকদের স্মরণেই এ দিবসের সূচনা। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য ও সংগ্রামের চেতনাই এ দিবসের মূল বার্তা।

তবে সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ব অনেক এগোলেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। উন্নয়নের আলোয় আলোকিত সমাজের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, বঞ্চনা ও কষ্টের গল্প আজও রয়ে গেছে। মহান মে দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা শ্রমিক অধিকার নিয়ে নিজেদের ভাবনা, প্রত্যাশা ও উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম বলেন, মে দিবসে শ্রমিকদের অবদানের কথা উচ্চারিত হলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক এখনো ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। সমাজে তাদের কষ্ট ও অবদানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার কেয়া বলেন, পোশাক খাতে কিছু উন্নতি এলেও নির্মাণসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকরা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর তদারকি এবং মালিকপক্ষের আন্তরিকতা। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক এবারের মে দিবসের প্রধান অঙ্গীকার।

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. যায়েদ হোসাইন বলেন, দেশের কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রম জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিয়োগ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি দেশ-বিদেশের সকল শ্রমিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দৃষ্টি রাণী পোদ্দার নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, কর্মক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো যৌন হয়রানি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং অভিযোগ জানাতে অনীহা বা ভয় বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি নারী শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ, সহায়ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সচেতনতা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মে দিবসের চেতনা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন দেশের প্রতিটি শ্রমিক ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতভাবে ভোগ করতে পারবেন।