কানাডা প্রবাসী স্বামীর দেখানো তথ্যে বাড়ির সীমানার ভেতর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল স্ত্রী আফরোজার মরদেহ। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী ৩০ মে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে আফরোজাকে হত্যার পর বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় প্রধান অভিযুক্ত স্বামী আশরাফুল আলম কৌশলে কানাডায় পাড়ি জমান। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজিয়া খাতুনের উপস্থিতিতে আত্মীয়দের মাধ্যমে আশরাফুলের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করা হয়। গত ৩১ মে ভিডিও কলেই আশরাফুল নিজে লাশের সুনির্দিষ্ট অবস্থানটি দেখিয়ে দেন। তার দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে আফরোজার মরদেহ।
তার বাবা শামছুদ্দিন আহমেদ, ভাই সজীব আলম, ভাইয়ের স্ত্রী তাহমিনা বাশার এবং খালা আইনজীবী পান্না চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়।
* গ্রেপ্তার ও জামিন: ঘটনার পর চার আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন।
* পলাতক হওয়ার শঙ্কা: নিহতের পরিবারের দাবি, জামিন পাওয়ার পর এক আসামি ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। নিম্ন আদালতে জামিন না মেলায় এখন আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ করছে।
মামলার অন্যতম আসামি অ্যাডভোকেট পান্না চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে তার সুসম্পর্ক নেই এবং তিনিই বরং মরদেহ উদ্ধারে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন।
অন্যদিকে, নিহতের স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং পলাতক প্রধান আসামি আশরাফুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আগামী ৩০ মে চার্জ গঠনের মাধ্যমেই শুরু হবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া।




















