ভারতে আবারও মধ্যযুগীয় কুসংস্কারের নির্মম চিত্র উঠে এসেছে। আসামের কার্বি আংলং জেলার হাওরাঘাট থানাধীন ১ নম্বর বেলোগুড়ি মুন্ডা গ্রামে ‘ডাইনি’ সন্দেহে এক দম্পতিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন গার্দি বিরুয়া (৪৩) ও তাঁর স্ত্রী মীরা বিরুয়া (৩৩)।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাত সোয়া আটটার দিকে গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা কুসংস্কারের বশে ওই দম্পতির ওপর হামলা চালায়। অভিযুক্তরা প্রথমে তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার একপর্যায়ে দম্পতিকে বাড়ির উঠানেই হত্যা করা হয়।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্বি আংলং জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার পুষ্পরাজ সিং বলেন, ঘটনাটি স্পষ্টতই ‘উইচ-হান্টিং’ বা ডাইনি শিকারের সঙ্গে জড়িত। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তমাখা মাটি, কাঠের লাঠি ও গোবর মেশানো পানি ভর্তি একটি গামলা উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা, প্রমাণ নষ্ট করতেই এসব ব্যবহার করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং অপরাধীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
, আসামে ডাইনি শিকার প্রতিরোধে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কাউকে ‘ডাইনি’ আখ্যা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চলতি বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার কুসংস্কার নির্মূলে নতুন নীতিমালাও ঘোষণা করেছিল। তবুও অন্ধবিশ্বাসের কারণে আরও দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:
কুসংস্কারের ভয়াবহতা: আসামে ‘ডাইনি’ সন্দেহে দম্পতিকে হত্যা
-
নিউজ ডেস্ক - আপডেট: ১২:২০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- ৬৮২
সর্বাধিক পঠিত





















