০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে ‘চীনা’ আখ্যা দিয়ে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৬

ভারতে আবারো বর্ণবিদ্বেষী হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বিএসএফ সদস্যের সন্তান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার ওই যুবককে ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ ও পরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।

নিহত যুবকের নাম অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪)। তিনি দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা বিএসএফ-এর ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তাঁর ছোট ভাই মাইকেল দোজকে নিয়ে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে একদল যুবক তাঁদের পথরোধ করে ‘চীনা’ বলে বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের পরিচয় দেওয়ার জন্য কোনো প্রশংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।”
এই বাদানুবাদের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। তাঁর ভাই মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।
মৃত্যু ও বর্তমান পরিস্থিতি
আহত অ্যাঞ্জেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দীর্ঘ ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ নিজ রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ এই ঘটনায় ছয়জনকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে দুই নাবালকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল হোতা যজ্ঞ অবস্থি এখনো পলাতক। পুলিশের ধারণা, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। তাকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৩(১) (হত্যা) সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতজুড়ে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। টিপরা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাঁদেরই ‘চীনা’ বলে অপমান ও হত্যা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং ভারতের অখণ্ডতার ওপর বড় আঘাত।”

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এখন জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধ (Hate Crime) বন্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

ভারতে ‘চীনা’ আখ্যা দিয়ে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা

আপডেট: ০৪:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে আবারো বর্ণবিদ্বেষী হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক বিএসএফ সদস্যের সন্তান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার ওই যুবককে ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ ও পরে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।

নিহত যুবকের নাম অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪)। তিনি দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা বিএসএফ-এর ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তাঁর ছোট ভাই মাইকেল দোজকে নিয়ে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে একদল যুবক তাঁদের পথরোধ করে ‘চীনা’ বলে বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের পরিচয় দেওয়ার জন্য কোনো প্রশংসাপত্রের প্রয়োজন নেই।”
এই বাদানুবাদের একপর্যায়ে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। তাঁর ভাই মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।
মৃত্যু ও বর্তমান পরিস্থিতি
আহত অ্যাঞ্জেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দীর্ঘ ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বিকেলে তাঁর মরদেহ নিজ রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় পৌঁছালে সেখানে শোকাবহ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ এই ঘটনায় ছয়জনকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে দুই নাবালকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল হোতা যজ্ঞ অবস্থি এখনো পলাতক। পুলিশের ধারণা, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। তাকে ধরিয়ে দিতে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে প্রশাসন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৩(১) (হত্যা) সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ভারতজুড়ে বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। টিপরা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাঁদেরই ‘চীনা’ বলে অপমান ও হত্যা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং ভারতের অখণ্ডতার ওপর বড় আঘাত।”

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এখন জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধ (Hate Crime) বন্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে।