০১:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২২

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মসজিদের মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শব্দসীমা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (প্রতিবেদনে উল্লেখিত) জেলার নাজিবাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর বিজনোর জেলার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।

এরপর পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের আবেদনের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর নিজ এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

একই সঙ্গে জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানিয়েছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাইকের ব্যবহার, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা ও মেয়ের মৃত্যু, স্ত্রী গুরুতর আহত

ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার

আপডেট: ০৯:৪৯:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলায় মসজিদের মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ফাইজান নামে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মসজিদের মাইক জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শব্দসীমা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (প্রতিবেদনে উল্লেখিত) জেলার নাজিবাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর বিজনোর জেলার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং এবং পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।

এরপর পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরে উপপরিদর্শক সৌরভ কুমারের আবেদনের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর নিজ এলাকায় শব্দসীমা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন।

একই সঙ্গে জেলার সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজ নিজ এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ব্যবহৃত মাইকের শব্দমাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

বিজনোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানিয়েছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকায় এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে ধর্মীয় উপাসনালয়ে মাইকের ব্যবহার, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।