জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’। এর প্রভাবে কান্তো অঞ্চলসহ পূর্ব জাপানের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি, প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।
জেএমএ জানিয়েছে, টাইফুন ‘দুজুয়ান’ সোমবারের মধ্যে টোকিও মহানগরীর কাছাকাছি দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। ফলে কান্তোসহ পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ইজু দ্বীপপুঞ্জ, চিবা প্রিফেকচারসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবার থেকে কোনো কোনো এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনটি কান্তো অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সোমবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। কান্তো অঞ্চলের আওতায় টোকিও ও আশপাশের কয়েকটি প্রিফেকচার রয়েছে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝোড়ো বাতাসের কারণে বিভিন্ন স্থাপনা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘লিনিয়ার রেইন ব্যান্ড’ নিয়ে সতর্কতা
কান্তো ও মধ্য জাপানের কিছু এলাকায় ‘লিনিয়ার রেইন ব্যান্ড’ বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপ্রবণ মেঘমালা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ধরনের মেঘমালা একই এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টি ঘটাতে পারে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।
জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের অতিবৃষ্টির ঘটনা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টাইফুনের প্রভাব পড়েছে জাপানে চলমান এশিয়ান গেমসেও। মধ্য জাপানের আইচি প্রিফেকচারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অশ্বারোহী ইভেন্টিংয়ের কয়েকটি ইভেন্ট টাইফুনের কারণে মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে জাপানে আঘাত হানতে যাচ্ছে টাইফুন ‘দুজুয়ান’। পূর্ব এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনা দেখা গেছে।
জাপানের কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস ও স্থানীয় সতর্কতা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।




















