১২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তে প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মরদেহে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে আরএমপির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই প্রথমে তাকে এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

আরএমপি কমিশনার বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যেরও মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে সীমান্ত দাস, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। ছাদের পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন।

একপর্যায়ে ভোর হলে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখতে পান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। এরপর দুজন দুই দিক থেকে গামছা টানলে তার মৃত্যু হয়।

পরে গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করলে মুগ্ধ প্রীতিলতার গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ আগামীকে গলা চেপে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এরপর অভিযুক্তরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আলমারি এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় পরিবারের এক শিশু ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে চিনতে পেরে তার নাম ধরে ডাক দেয়। শিশুটি তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এরপর বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে অফিস সহকারী মিজানের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত মেলেনি

আপডেট: ১১:১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তে প্রীতিলতা ও আগামী চক্রবর্তীর মরদেহে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে আরএমপির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য, ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই প্রথমে তাকে এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

আরএমপি কমিশনার বলেন, প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যেরও মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে সীমান্ত দাস, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। ছাদের পানির ট্যাংকের আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন।

একপর্যায়ে ভোর হলে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখতে পান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্তরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন। এরপর দুজন দুই দিক থেকে গামছা টানলে তার মৃত্যু হয়।

পরে গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করলে মুগ্ধ প্রীতিলতার গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ আগামীকে গলা চেপে হত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, এরপর অভিযুক্তরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ও আলমারি এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় পরিবারের এক শিশু ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধার্থকে চিনতে পেরে তার নাম ধরে ডাক দেয়। শিশুটি তাদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এরপর বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।