০৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

শায়েস্তাবাদ ইউপি সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

বরিশাল জেলার ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কথিত ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হতো সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা বিতরণেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে। বাস্তবে কাজের যথাযথ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এর আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ক্ষমতার প্রভাব ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা প্রদানের রেজিস্টার, আদায়কৃত ফি, ভাতা বিতরণের তালিকা, প্রকল্পের নথিপত্র ও অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব আরিফুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে ইউপি সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

সর্বাধিক পঠিত

Step-by-step registration at WrBet Kenya: your path to gaming fun

শায়েস্তাবাদ ইউপি সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: ১১:১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বরিশাল জেলার ৪ নম্বর শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কথিত ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিতে হতো সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা বিতরণেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে। বাস্তবে কাজের যথাযথ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এর আগেও মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ক্ষমতার প্রভাব ও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দা ও সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবা প্রদানের রেজিস্টার, আদায়কৃত ফি, ভাতা বিতরণের তালিকা, প্রকল্পের নথিপত্র ও অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব আরিফুরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত হচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে ইউপি সচিব আরিফুরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং কোনো কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।