বেনাপোল প্রতিনিধি: উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে ভারত হয়ে চীনে যাওয়ার পথে ভারতে আটক হয়ে চার বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন জামালপুরের সিরাজুল ইসলাম। ৫৭ বছর বয়সী সিরাজুলকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে দেশটির ইমিগ্রেশন ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ সিরাজুলকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা সিরাজুল ইসলাম জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চানমরিহাট গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান জানান, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারত হয়ে চীনে পাঠানোর কথা বলে দালালরা সিরাজুলকে বুড়িমারি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে নিয়ে যায়।
ভারতে প্রবেশের পর সিরাজুল বিহারে গিয়ে প্রায় ছয় মাস জেলের কাজ করেন। পরে জুলাই মাসে বিএসএফের হাতে আটক হন তিনি। এরপর ভারতের আদালত তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়ে বিহারের একটি কারাগারে পাঠায়।
দীর্ঘ চার বছর কারাভোগের পর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালির একপর্যায়ে তাকে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সিরাজুলকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মুহিত চৌধুরী জানান, সিরাজুলকে আপাতত যশোরে তাদের শেল্টারহোমে রাখা হবে। সেখানে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সিরাজুলের মতো অনেক বাংলাদেশি সীমান্তে আটক হয়ে কারাভোগের শিকার হন। তাই বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ও নিরাপদ পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।




















