০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সখীপুরে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনের মৃত্যু,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জামাল উদ্দিনের ভাতিজি জামাই শাহ আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত শুক্রবার তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়ার দুই দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ২ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

পরে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে গত ৪ আগস্ট অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার তাকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সৌদি আরবে যান। সেখানে প্রায় ১২ বছর প্রবাসজীবন কাটানোর পর তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।

জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে থাকাকালে জামাল তার উপার্জনের টাকা স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী-সন্তানেরা তার চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই মানবিক আচরণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। ফলে তিনি এখন আর তার স্বামী নন। এ কারণেই তাকে গাড়িতে করে তাদের গ্রামের এলাকায় রেখে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি রিনা আক্তার।

এদিকে জামাল উদ্দিনের চিকিৎসার পর এবার তার দাফনের দায়িত্বও নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম ওরফে মুক্তা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী তার চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করেছি। এখন গ্রাম থেকে টাকা তুলে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আপনজনের পরিবর্তে গ্রামবাসীর উদ্যোগে তার চিকিৎসা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে বৃদ্ধা, স্বর্ণের দুল চুরি

সখীপুরে রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনের মৃত্যু,

আপডেট: ১১:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জামাল উদ্দিনের ভাতিজি জামাই শাহ আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। তার দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত শুক্রবার তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়ার দুই দিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ২ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় জামাল উদ্দিনকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

পরে ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে গত ৪ আগস্ট অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার তাকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে সৌদি আরবে যান। সেখানে প্রায় ১২ বছর প্রবাসজীবন কাটানোর পর তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না।

জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিল অভিযোগ করে বলেন, বিদেশে থাকাকালে জামাল তার উপার্জনের টাকা স্ত্রীর নামে পাঠিয়েছেন। অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী-সন্তানেরা তার চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া কোনোভাবেই মানবিক আচরণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেন, প্রায় আড়াই মাস আগে তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। ফলে তিনি এখন আর তার স্বামী নন। এ কারণেই তাকে গাড়িতে করে তাদের গ্রামের এলাকায় রেখে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি রিনা আক্তার।

এদিকে জামাল উদ্দিনের চিকিৎসার পর এবার তার দাফনের দায়িত্বও নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম ওরফে মুক্তা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী তার চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করেছি। এখন গ্রাম থেকে টাকা তুলে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আপনজনের পরিবর্তে গ্রামবাসীর উদ্যোগে তার চিকিৎসা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।