১১:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দোয়ারাবাজারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি ল্যাপটপ অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও বিদ্যালয়ের সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলার বাসিন্দা মো. সাইফুর রহমান সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ তিনটি সরকারি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রধান শিক্ষকের মালিকানাধীন একটি কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অতীতে কয়েকজন শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এসব খাতে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুবই সীমিত।

প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমে বেশি সময় দেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।

এ ছাড়া অতীতে একাধিকবার বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাও বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারেও রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি সবসময় প্রতিষ্ঠানে থাকে। একটি বাসায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা হয়। আর এনজিও সংস্থায় বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সময় দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ হয়েছে, সেটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বাধিক পঠিত

আমিনবাজারের ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামজারিতে হয়রানি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

দোয়ারাবাজারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি ল্যাপটপ অপব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১০:০৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও বিদ্যালয়ের সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলার বাসিন্দা মো. সাইফুর রহমান সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ তিনটি সরকারি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রধান শিক্ষকের মালিকানাধীন একটি কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অতীতে কয়েকজন শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। এসব খাতে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুবই সীমিত।

প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমে বেশি সময় দেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।

এ ছাড়া অতীতে একাধিকবার বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাও বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারেও রয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি সবসময় প্রতিষ্ঠানে থাকে। একটি বাসায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা হয়। আর এনজিও সংস্থায় বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সময় দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ হয়েছে, সেটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’