১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৮ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজির প্রমাণ, ব্যবস্থা নেই এক বছরেও

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮ কোটি টাকার দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও এক বছরেও কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্তে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনাকাটা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম ও প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ও প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধেও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

গত বছরের ১৪ জুলাই জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দরপত্র প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। কমিশনের মামলা নং ০৩/২০২৫-এর অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বিড রিগিং বা টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সরকারি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, অ-উন্নয়ন বাজেটের আওতায় উপাচার্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন। ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত চুক্তির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ক্রয়চুক্তি অনুমোদনের এখতিয়ার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির।

কিন্তু এই বিধান উপেক্ষা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই প্রায় ১০৮ কোটি টাকার দুটি দরপত্র অনুমোদন করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লট-১-এ মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং লট-২-এ প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় কার্যাদেশ পায়। দুটি লটে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১০৮ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপস পদ্ধতির স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। আবার চুক্তির সময় সেটিকে ফ্রেমওয়ার্ক কন্ট্রাক্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কমিশনের মতে, একই ক্রয়কার্যে তিন ধরনের পদ্ধতির উল্লেখ দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

তদন্তে বলা হয়, দরপত্রে গত তিন বছরে অন্তত দুটি ৪০ কোটি টাকার চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কমিশনের মতে, এ ধরনের শর্ত প্রকৃত প্রতিযোগিতা সীমিত করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, অংশ নেওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টেকনিক্যালি নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা হলেও তাদের অযোগ্য ঘোষণার কারণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

কমিশনের তদন্তে দরদাতাদের অবস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক লটে মাস্টার সিমেক্স সর্বনিম্ন দরদাতা এবং প্রিন্ট মাস্টার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও অন্য লটে দেখা যায় উল্টো চিত্র।

কমিশনের মতে, এই বিন্যাস স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার ফল নয়; বরং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগির ইঙ্গিত বহন করে। তদন্তে আরও বলা হয়, গত পাঁচ বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ধরনের কাজ ধারাবাহিকভাবে মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড পেয়ে আসছে।

প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ খান দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেডের পরিচালক শেখ ইমরান হোসেন অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর কাজ হওয়ায় সরল বিশ্বাসে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে কোনো অস্বচ্ছতা ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এক বছর পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কমিশন ভবিষ্যতে সরকারি সব কেনাকাটা ই-জিপিতে আনা, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং ব্লকচেইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে টেন্ডার কারসাজি শনাক্তের সুপারিশ করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তদন্তে অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। তিনি দ্রুত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

সর্বাধিক পঠিত

আমিনবাজারের ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামজারিতে হয়রানি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৮ কোটি টাকার দরপত্রে কারসাজির প্রমাণ, ব্যবস্থা নেই এক বছরেও

আপডেট: ১০:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮ কোটি টাকার দরপত্র অনুমোদনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলেও এক বছরেও কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের তদন্তে বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনাকাটা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম ও প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ও প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধেও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

গত বছরের ১৪ জুলাই জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দরপত্র প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। কমিশনের মামলা নং ০৩/২০২৫-এর অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বিড রিগিং বা টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সরকারি আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, অ-উন্নয়ন বাজেটের আওতায় উপাচার্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন। ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত চুক্তির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের। আর ৫০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ক্রয়চুক্তি অনুমোদনের এখতিয়ার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির।

কিন্তু এই বিধান উপেক্ষা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজেই প্রায় ১০৮ কোটি টাকার দুটি দরপত্র অনুমোদন করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লট-১-এ মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড ৫৪ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং লট-২-এ প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় কার্যাদেশ পায়। দুটি লটে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১০৮ কোটি ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

দরপত্র বিজ্ঞপ্তিতে ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপস পদ্ধতির স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট ব্যবহার করা হয়। আবার চুক্তির সময় সেটিকে ফ্রেমওয়ার্ক কন্ট্রাক্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কমিশনের মতে, একই ক্রয়কার্যে তিন ধরনের পদ্ধতির উল্লেখ দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

তদন্তে বলা হয়, দরপত্রে গত তিন বছরে অন্তত দুটি ৪০ কোটি টাকার চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কমিশনের মতে, এ ধরনের শর্ত প্রকৃত প্রতিযোগিতা সীমিত করে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়ে থাকতে পারে।

অন্যদিকে, অংশ নেওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে টেকনিক্যালি নন-রেসপনসিভ ঘোষণা করা হলেও তাদের অযোগ্য ঘোষণার কারণ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

কমিশনের তদন্তে দরদাতাদের অবস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক লটে মাস্টার সিমেক্স সর্বনিম্ন দরদাতা এবং প্রিন্ট মাস্টার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হলেও অন্য লটে দেখা যায় উল্টো চিত্র।

কমিশনের মতে, এই বিন্যাস স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার ফল নয়; বরং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগির ইঙ্গিত বহন করে। তদন্তে আরও বলা হয়, গত পাঁচ বছর ধরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ধরনের কাজ ধারাবাহিকভাবে মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেড পেয়ে আসছে।

প্রিন্ট মাস্টার প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক তোফায়েল আহমেদ খান দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। মাস্টার সিমেক্স পেপার লিমিটেডের পরিচালক শেখ ইমরান হোসেন অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। প্রযুক্তিনির্ভর কাজ হওয়ায় সরল বিশ্বাসে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে কোনো অস্বচ্ছতা ছিল না।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এক বছর পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কমিশন ভবিষ্যতে সরকারি সব কেনাকাটা ই-জিপিতে আনা, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং ব্লকচেইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে টেন্ডার কারসাজি শনাক্তের সুপারিশ করেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তদন্তে অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক। তিনি দ্রুত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।