রংপুরের তারাগঞ্জে পাটক্ষেত থেকে নয় বছরের শিশু সানজিদা আক্তারের লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঘাতক মুজাহিদ ইসলামকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মুজাহিদ ওই শিশুকে ধর্ষণের পর আঘাত করে হত্যা করার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে তারাগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানিপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে ওই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতার মুজাহিদ ইসলাম শিশু সানজিদাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর প্রমাণ লোপাট ও নৃশংসতার অংশ হিসেবে শিশুটির দুই চোখ নিচের দিকে দাবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গ্রেফতারের পর মুজাহিদ পুলিশ ও আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে ইতিমধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ভীমপুর কোরানিপাড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলামের মেয়ে সানজিদা আক্তার (৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিখোঁজের পরদিন, অর্থাৎ শনিবার সকালে ডালিয়া সেচ ক্যানালের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে সানজিদার লাশ উদ্ধার করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। উদ্ধারকালে লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং চোখ দুটো ভেতরের দিকে দাবানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
লাশ উদ্ধারের পর গত রবিবার সানজিদার বাবা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মূল অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















