০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৪ দোকান নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ টাকা আদায়ের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫০৬

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ এবং দোকান বরাদ্দের নামে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা কাঁচাবাজারটি এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৭৫ টাকায় ইজারা নেন আতিকুর রহমান লেন্টু। ইজারা চুক্তির লিখিত স্ট্যাম্পের ১১ নম্বর শর্ত অনুযায়ী বাজারের ভেতরে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা ভাঙাগড়ার কাজ করা যাবে না। কিন্তু ওই শর্ত উপেক্ষা করে পুনর্বাসনের কথা বলে বাজারের মধ্যস্থানে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন দোকান বরাদ্দের নামে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে এ অর্থ গ্রহণের কোনো লিখিত হিসাব, রসিদ বা আর্থিক স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। কার অনুমতিতে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এছাড়া অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান বলেন, “কাউকে হয়রানি করা হয়নি এবং অবৈধভাবে কোনো দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি দোকানপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে বাজারের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করে বলেন, “আমি নিয়ম মেনে এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৭৫ টাকায় বাজারটি ইজারা নিয়েছি। ইজারার শর্তে স্পষ্টভাবে বাজারের মধ্যে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বা ভাঙাগড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমি ঢাকায় থাকার সুযোগে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাজারের ভেতরে ১৪টি দোকান নির্মাণ করেছেন। তারা প্রতিটি দোকানের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলেও জানতে পেরেছি।”

এদিকে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাজারের জায়গা দখল, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সচেতন মহলও বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ৩২, মৃতের সংখ্যা লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা ইউএসজিএসের

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৪ দোকান নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ টাকা আদায়ের দাবি

আপডেট: ১১:২০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ এবং দোকান বরাদ্দের নামে ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা কাঁচাবাজারটি এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৭৫ টাকায় ইজারা নেন আতিকুর রহমান লেন্টু। ইজারা চুক্তির লিখিত স্ট্যাম্পের ১১ নম্বর শর্ত অনুযায়ী বাজারের ভেতরে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা ভাঙাগড়ার কাজ করা যাবে না। কিন্তু ওই শর্ত উপেক্ষা করে পুনর্বাসনের কথা বলে বাজারের মধ্যস্থানে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন দোকান বরাদ্দের নামে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তবে এ অর্থ গ্রহণের কোনো লিখিত হিসাব, রসিদ বা আর্থিক স্বচ্ছতা নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। কার অনুমতিতে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এছাড়া অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান বলেন, “কাউকে হয়রানি করা হয়নি এবং অবৈধভাবে কোনো দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি দোকানপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে বাজারের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করে বলেন, “আমি নিয়ম মেনে এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৪৭৫ টাকায় বাজারটি ইজারা নিয়েছি। ইজারার শর্তে স্পষ্টভাবে বাজারের মধ্যে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বা ভাঙাগড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমি ঢাকায় থাকার সুযোগে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাজারের ভেতরে ১৪টি দোকান নির্মাণ করেছেন। তারা প্রতিটি দোকানের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলেও জানতে পেরেছি।”

এদিকে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাজারের জায়গা দখল, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সচেতন মহলও বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।