গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় তালাবদ্ধ একটি ঘরের ভেতর থেকে ফারজানা আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী ও বাড়ির কেয়ারটেকারকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় নতুন বাজার নিউমার্কেট এলাকার রাজুর বাড়ির একটি টিনশেড কলোনির ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারজানা আক্তার রাজধানীর মিরপুর বিহারীপট্টি এলাকার আইয়ুব আলীর মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. বাবু (৩৫) এবং বাসার কেয়ারটেকার রোমান (২৭)কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় টিনশেড কলোনির একটি কক্ষ থেকে আগুনে পোড়া তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এ সময় কক্ষটির বাইরে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে ফারজানা আক্তারের আগুনে পোড়া মরদেহ দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
আটক স্বামী বাবুর দাবি, বাসার কেয়ারটেকার রোমানের সঙ্গে তার স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি স্ত্রীকে ঘরে তালাবদ্ধ রেখে কোনাবাড়ী বাজারে যান। পরে ফিরে এসে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পান।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কক্ষ থেকে একটি কেরোসিন তেলের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইফতেখার হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















