০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

যশোরে স্বামী-শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের বিচার চেয়ে নারীর সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ৫০৯

স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার খালেদা। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নার্গিস আক্তার জানান, ২০০৭ সালে যশোর জেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ, ঋণ নিয়ে আত্মগোপন এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, ২০১২ সালের মার্চ মাসে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তার শাশুড়ি ও ভাসুর ঢাকার বাসা থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নার্গিস আক্তারের দাবি, ২০২১ সালে তার স্বামী পুনরায় প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এছাড়া ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী বদিয়ার রহমান, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ননদ সালমা ও সালমার স্বামী মোস্তফাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী জানান, বাবার জমি বিক্রির প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি শ্বশুরের জমিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে পালিয়ে যান। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নার্গিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে খালেদ রহান আলিফ ও মেয়ে রুবাইয়া রহমান।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

যশোরে স্বামী-শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের বিচার চেয়ে নারীর সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৩:৩১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্যাতন, যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা নার্গিস আক্তার খালেদা। বৃহস্পতিবার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নার্গিস আক্তার জানান, ২০০৭ সালে যশোর জেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারককাঠি গ্রামের বাসিন্দা বদিয়ার রহমানর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার অভিযোগ, স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা আত্মসাৎ, ঋণ নিয়ে আত্মগোপন এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি জানান, ২০১২ সালের মার্চ মাসে সন্তান জন্মের কয়েকদিন আগে তার শাশুড়ি ও ভাসুর ঢাকার বাসা থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নার্গিস আক্তারের দাবি, ২০২১ সালে তার স্বামী পুনরায় প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। এছাড়া ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনি স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী বদিয়ার রহমান, শাশুড়ি সুফিয়া বেগম, ভাসুর মশিয়ার গাজী, ননদ সালমা ও সালমার স্বামী মোস্তফাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে মারধর করেন এবং সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী জানান, বাবার জমি বিক্রির প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি শ্বশুরের জমিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯ মার্চ তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে পালিয়ে যান। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ও তার সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নার্গিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে খালেদ রহান আলিফ ও মেয়ে রুবাইয়া রহমান।