যশোরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় নিহতের পরিবারে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, আসামি মুক্ত হওয়ার পর থেকেই তারা আবারও হুমকি-ধামকির মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী শামীমা বেগম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তার মেয়ে ইলারা খাতুন রাত্রি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ জানুয়ারি বিকেলে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কে নিজ বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও গ্রীনল্যান্ড প্রোপার্টিজের মালিক আলমগীর হোসেনকে। মোটরসাইকেলে এসে বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন ৪ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন বলে জানায় পরিবার।
তবে মাত্র চার মাসের মাথায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে ৩০ এপ্রিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান প্রধান আসামি বাসেদ আলী পরশ। এতে ক্ষোভ ও আতঙ্কে ভুগছে নিহতের পরিবার।
নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম অভিযোগ করেন, আসামির বাবা একজন আইনজীবী ও সাবেক জনপ্রতিনিধি এবং আসামি নিজেও আইন পেশার সঙ্গে জড়িত থাকায় আইনি প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত জামিন পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, আসামিরা কারাগারে থাকাকালীন সময়েও বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দিত এবং বর্তমানে জামিনে বের হয়ে আরও বেশি হুমকি দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি আসামির পরিবারের লোকজনের মাধ্যমেও হুমকি আসছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনরা দ্রুত আসামিদের জামিন বাতিল এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এই ঘটনা আবারও দেখায় যে, উচ্চপ্রোফাইল বা প্রভাবশালী আসামিদের দ্রুত জামিন পাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ও আস্থাহীনতা তৈরি করছে। একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা স্বাভাবিক।
আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে শুধু গ্রেপ্তারই নয়, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অভিযোগ সত্য হলে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—নইলে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।




















