০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ র‍্যাবের অভিযান, ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগে মালিকের কারাদণ্ড

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৪

যশোরের শেখহাটির আলোচিত প্রতিষ্ঠান ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ভেজাল মধু তৈরির নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাহাবুবুর ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‍্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কৃত্রিম উপায়ে ভেজাল মধু উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই র‍্যাব এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দেখা যায়, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক ও উপকরণ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে মধু তৈরি করা হচ্ছিল। পরে সেগুলোকে খাঁটি মধু হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হতো। এছাড়া কালোজিরা, সাদাতিলসহ বিভিন্ন পণ্য ভিন্ন নামে অবৈধভাবে মোড়কজাত করে বাজারজাত করারও প্রমাণ পাওয়া যায়।

র‍্যাব সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ভেজাল পণ্য তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেন। অভিযানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। কাসুন্দি তৈরির জন্য গত বছরের আম সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণও পাওয়া গেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত।

পরে সিনিয়র সহকারী কমিশনার গুঞ্জন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন এবং ভোক্তা প্রতারণার দায়ে মাহাবুবুর ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। একাধিকবার তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও তিনি কার্যক্রম বন্ধ করেননি। তবে এবার পুনরাবৃত্ত অপরাধের কারণে তাকে সরাসরি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছের‍্যাব জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সর্বাধিক পঠিত

অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারীদের কর্মবিরতি ১০-১১ মে

যশোরে ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ র‍্যাবের অভিযান, ভেজাল মধু তৈরির অভিযোগে মালিকের কারাদণ্ড

আপডেট: ০৩:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শেখহাটির আলোচিত প্রতিষ্ঠান ‘বিসমিল্লাহ মধু ট্রেডিং’-এ অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ভেজাল মধু তৈরির নানা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মাহাবুবুর ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

র‍্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কৃত্রিম উপায়ে ভেজাল মধু উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই র‍্যাব এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দেখা যায়, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক ও উপকরণ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে মধু তৈরি করা হচ্ছিল। পরে সেগুলোকে খাঁটি মধু হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হতো। এছাড়া কালোজিরা, সাদাতিলসহ বিভিন্ন পণ্য ভিন্ন নামে অবৈধভাবে মোড়কজাত করে বাজারজাত করারও প্রমাণ পাওয়া যায়।

র‍্যাব সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির গোডাউন তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ মোড়ক, প্যাকেজিং সামগ্রী এবং ভেজাল পণ্য তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেন। অভিযানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। কাসুন্দি তৈরির জন্য গত বছরের আম সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণও পাওয়া গেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত।

পরে সিনিয়র সহকারী কমিশনার গুঞ্জন বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন এবং ভোক্তা প্রতারণার দায়ে মাহাবুবুর ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির মালিকের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। একাধিকবার তার প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও তিনি কার্যক্রম বন্ধ করেননি। তবে এবার পুনরাবৃত্ত অপরাধের কারণে তাকে সরাসরি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছের‍্যাব জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।