০৬:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরসহ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে স্যানিটেশন-আবাসন প্রকল্পের নামে ৪ কোটি টাকার প্রতারণা, যশোরে শফিক-মুরাদ চক্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২

যশোরসহ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে স্যানিটেশন, আবাসন ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ‘রোকেয়া জামান যুব কল্যাণ সংস্থা’ নামের অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ প্রতারণা চালানো হয়। মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে মণিরামপুরের সরুদহ এলাকার শফিকুজ্জামান এবং ব্র্যাকের কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী মুরাদ হোসেনের নাম। অভিযোগের পর দুজনই বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ জন মাঠকর্মী ও অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক নারীকে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব কর্মীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্য স্যানিটেশন ও আবাসন প্রকল্প (প্রণোদনা ব্র্যাক)’ নামে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, পাকা বাথরুম, সৌর বিদ্যুৎ, সেলাই মেশিন, টিসিবি সুবিধা, স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এসব সুবিধা পেতে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

প্রতারক চক্রটি যশোর সদর, ঝিকরগাছা, অভয়নগর ও মণিরামপুরে অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা পর্যন্ত তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়। এভাবে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, মাঠকর্মী লিমা খাতুনের কাছ থেকে ৭ লাখ, স্বপ্না সুলতানার কাছ থেকে ১৬ লাখ, সালমা বেগমের কাছ থেকে ১৫ লাখ, বেবি খাতুনের কাছ থেকে ১০ লাখ, ইতি খাতুনের কাছ থেকে ১২ লাখ, সাফিয়া বেগমের কাছ থেকে ১৪ লাখ, সাধনা সরকারের কাছ থেকে ১৩ লাখ এবং লাভলী বেগমের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকাসহ বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহের জন্য ১০ হাজার কার্ড দেওয়ার নামে আরও ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ ও ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংক’ অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে মাথাপিছু ৬৫০ টাকা করে প্রায় ২ হাজার মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বর্তমানে অফিসগুলো বন্ধ থাকায় মাঠকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ মানুষ টাকা ফেরতের দাবিতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। অনেক মাঠকর্মী নিজেদের জমি, গবাদিপশু ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে শফিকুজ্জামান ও মুরাদ উল্টো ভয়ভীতি দেখান এবং চেক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। এতে মাঠকর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা দ্রুত শফিকুজ্জামান, মুরাদ এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিকুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি; বরং প্রকল্পের দায়িত্ব মুরাদ হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তাই এ বিষয়ে তার কোনো দায় নেই। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

অধিকাল ভাতা পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্মচারীদের কর্মবিরতি ১০-১১ মে

যশোরসহ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে স্যানিটেশন-আবাসন প্রকল্পের নামে ৪ কোটি টাকার প্রতারণা, যশোরে শফিক-মুরাদ চক্রের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

আপডেট: ১১:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরসহ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে স্যানিটেশন, আবাসন ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। ‘রোকেয়া জামান যুব কল্যাণ সংস্থা’ নামের অনুমোদনহীন একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ প্রতারণা চালানো হয়। মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে মণিরামপুরের সরুদহ এলাকার শফিকুজ্জামান এবং ব্র্যাকের কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী মুরাদ হোসেনের নাম। অভিযোগের পর দুজনই বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ জন মাঠকর্মী ও অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক নারীকে মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব কর্মীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘স্বাস্থ্য স্যানিটেশন ও আবাসন প্রকল্প (প্রণোদনা ব্র্যাক)’ নামে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, পাকা বাথরুম, সৌর বিদ্যুৎ, সেলাই মেশিন, টিসিবি সুবিধা, স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এসব সুবিধা পেতে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

প্রতারক চক্রটি যশোর সদর, ঝিকরগাছা, অভয়নগর ও মণিরামপুরে অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরবর্তীতে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা পর্যন্ত তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়। এভাবে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, মাঠকর্মী লিমা খাতুনের কাছ থেকে ৭ লাখ, স্বপ্না সুলতানার কাছ থেকে ১৬ লাখ, সালমা বেগমের কাছ থেকে ১৫ লাখ, বেবি খাতুনের কাছ থেকে ১০ লাখ, ইতি খাতুনের কাছ থেকে ১২ লাখ, সাফিয়া বেগমের কাছ থেকে ১৪ লাখ, সাধনা সরকারের কাছ থেকে ১৩ লাখ এবং লাভলী বেগমের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকাসহ বহু মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এছাড়া স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহের জন্য ১০ হাজার কার্ড দেওয়ার নামে আরও ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ ও ‘ডাচ-বাংলা ব্যাংক’ অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে মাথাপিছু ৬৫০ টাকা করে প্রায় ২ হাজার মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বর্তমানে অফিসগুলো বন্ধ থাকায় মাঠকর্মীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ মানুষ টাকা ফেরতের দাবিতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। অনেক মাঠকর্মী নিজেদের জমি, গবাদিপশু ও গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইলে শফিকুজ্জামান ও মুরাদ উল্টো ভয়ভীতি দেখান এবং চেক সংক্রান্ত মিথ্যা মামলার হুমকি দেন। এতে মাঠকর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতরা দ্রুত শফিকুজ্জামান, মুরাদ এবং তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিকুজ্জামান। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, তিনি কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি; বরং প্রকল্পের দায়িত্ব মুরাদ হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তাই এ বিষয়ে তার কোনো দায় নেই। অন্যদিকে, মুরাদ হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন।