০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বেনাপোলে রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ: প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৫০১

যশোরের বেনাপোলে জনসাধারণের চলাচলের দীর্ঘদিনের পুরোনো রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ১০টি পরিবারের পক্ষে এই গুরুতর অভিযোগ করেন মো. সাইফুল ইসলাম।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দখলদারিত্ব
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম জানান, শার্শা থানার ভবেরবেড় মৌজায় ২৮২ নম্বর দাগের সরকারি জমি (যা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত) জবরদখল করে মো. মাসুম শেখ নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এর ফলে ওই এলাকার ১০টি পরিবারের প্রায় ৪৫ জন সদস্যের যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই জবরদখলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ভূমি অফিস, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

প্রশাসন থেকে সহযোগিতা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারির আবেদনসহ দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মাসুম ও তার ভাড়াটে বাহিনী গত ১৩ মার্চ রাতে সাইফুল ও তার ভাই-বোনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তারা গুরুতর জখম হয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মাসুম প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো মাসুম গত ১২ মার্চ আদালতে একটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সাজানো মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়:
* মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মামুন বাদীর পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীদের জেল খাটানোর ভয় দেখাচ্ছেন।
* তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে শাসাচ্ছেন এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিরুপায় হয়ে যশোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
১. ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা থেকে দ্রুত অব্যাহতি প্রদান।
২. সরকারি জমি উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি অবমুক্ত করা।
৩. সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ: প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

বেনাপোলে রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ: প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

আপডেট: ০৩:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

যশোরের বেনাপোলে জনসাধারণের চলাচলের দীর্ঘদিনের পুরোনো রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়ায় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ১০টি পরিবারের পক্ষে এই গুরুতর অভিযোগ করেন মো. সাইফুল ইসলাম।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দখলদারিত্ব
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইফুল ইসলাম জানান, শার্শা থানার ভবেরবেড় মৌজায় ২৮২ নম্বর দাগের সরকারি জমি (যা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত) জবরদখল করে মো. মাসুম শেখ নামের এক ব্যক্তি অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেছেন। এর ফলে ওই এলাকার ১০টি পরিবারের প্রায় ৪৫ জন সদস্যের যাতায়াতের একমাত্র পথটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই জবরদখলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ভূমি অফিস, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার লিখিত আবেদন করেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

প্রশাসন থেকে সহযোগিতা না পেয়ে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারির আবেদনসহ দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত মাসুম ও তার ভাড়াটে বাহিনী গত ১৩ মার্চ রাতে সাইফুল ও তার ভাই-বোনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তারা গুরুতর জখম হয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও মাসুম প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো মাসুম গত ১২ মার্চ আদালতে একটি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির সাজানো মামলা দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়:
* মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মামুন বাদীর পক্ষ নিয়ে ভুক্তভোগীদের জেল খাটানোর ভয় দেখাচ্ছেন।
* তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে শাসাচ্ছেন এবং এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিরুপায় হয়ে যশোর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
১. ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা থেকে দ্রুত অব্যাহতি প্রদান।
২. সরকারি জমি উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি অবমুক্ত করা।
৩. সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান।