ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের জেরে আবুল কাশেম (৪৫) নামে এক কৃষকদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে এই লঙ্কাকাণ্ড ঘটে।
নিহত আবুল কাশেম কাপাশহাটিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ওই গ্রামের আব্দুল লতিফ মন্ডলের ছেলে।:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার আত্মীয়র জন্ম সংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টে জনৈক বিএনপি নেতা মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজ (জামায়াত সমর্থক) ও আবুল কাশেমের (বিএনপি নেতা) মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। বুধবার রাতে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে আবুল কাশেম অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
: জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনের যৌথ হামলায় তাদের নেতা নিহত হয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন জানান, এটি পারিবারিক কলহ। নিজেদের স্বজনদের ছোড়া ইটের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে, যার সাথে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জুবায়ের জানান, নিহতের শরীরে বাইরে কোনো
চিহ্ন নেই। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের (Internal Hemorrhage) কারণে মৃত্যু হতে পারে, যা ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া জানান, ফেসবুকের লেখালেখি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এই সংঘর্ষ হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
রিরাইট নিউজ বাংলা





















