০৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ঝিকরগাছায় অনলাইন ক্যাসিনোর মরণফাঁদ: নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫০৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইন ক্যাসিনো বা ডিজিটাল জুয়ার নেশা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বনাশা এই খেলায় আসক্ত হয়ে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা পর্যন্ত সর্বস্বান্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, গেম খেলার আড়ালে এটি দেশি-বিদেশি একটি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পেতে রাখা মরণফাঁদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপস এবং গেমিং প্ল্যানিং কোড ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে এই জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। সাময়িক যৎসামান্য লাভের টোপ দিয়ে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করা হয়, যার শেষ পরিণতি অবধারিত আর্থিক দেউলিয়াত্ব। ঝিকরগাছা বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রতিষ্ঠিত অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
এক চিকিৎসকের আর্তনাদ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সফল হোমিও চিকিৎসক এই জুয়ার খপ্পরে পড়ে তার অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ খুইয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, “এটি এমন এক ভয়ংকর আসক্তি, যেখানে লোভের জালে একবার জড়িয়ে পড়লে ফেরার পথ থাকে না।” নিজের পারিবারিক অশান্তি ও নিঃস্ব হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি অন্যদের এই পথ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থী সমাজে অস্থিরতা
অনলাইন জুয়ার থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না কুলি-মজুর, ভ্যানচালক ও শিক্ষার্থীরাও। শ্রমজীবী পরিবারের নারীদের অভিযোগ, তাদের স্বামী বা সন্তানরা সারাদিনের উপার্জনের বড় অংশ মোবাইলে এমবি (ইন্টারনেট) ভরাতে ও জুয়া খেলায় ব্যয় করছে। ফলে সংসারে অভাব-অনটন ও নিত্যদিন কলহ লেগেই থাকছে। এর আগে উপজেলায় এক মেধাবী শিক্ষার্থী ‘ফ্রি ফায়ার’ গেমে আসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর খবরও পাওয়া গিয়েছিল।

ঝিকরগাছায় এর আগে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আলোচিত ‘কাজলের হুন্ডি ব্যবসা’ এবং এমএলএম কোম্পানি ‘ইউনিপে টু ইউ’-এর মাধ্যমে শত শত মানুষ নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। অনলাইন ক্যাসিনোকে সেই প্রতারণারই একটি অত্যাধুনিক এবং আরও ভয়ংকর সংস্করণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার এই ভয়াবহতা রোধে এখনও কোনো কার্যকর প্রযুক্তিগত বা আইনি ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই ডিজিটাল ক্যাসিনো বন্ধ করা না হলে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। জনজীবন ও অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ঝিকরগাছাবাসী।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় অনলাইন ক্যাসিনোর মরণফাঁদ: নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

ঝিকরগাছায় অনলাইন ক্যাসিনোর মরণফাঁদ: নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

আপডেট: ০৪:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইন ক্যাসিনো বা ডিজিটাল জুয়ার নেশা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সর্বনাশা এই খেলায় আসক্ত হয়ে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানরা পর্যন্ত সর্বস্বান্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, গেম খেলার আড়ালে এটি দেশি-বিদেশি একটি সঙ্ঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের পেতে রাখা মরণফাঁদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপস এবং গেমিং প্ল্যানিং কোড ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে এই জুয়া পরিচালিত হচ্ছে। সাময়িক যৎসামান্য লাভের টোপ দিয়ে ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করা হয়, যার শেষ পরিণতি অবধারিত আর্থিক দেউলিয়াত্ব। ঝিকরগাছা বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রতিষ্ঠিত অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
এক চিকিৎসকের আর্তনাদ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সফল হোমিও চিকিৎসক এই জুয়ার খপ্পরে পড়ে তার অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ খুইয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, “এটি এমন এক ভয়ংকর আসক্তি, যেখানে লোভের জালে একবার জড়িয়ে পড়লে ফেরার পথ থাকে না।” নিজের পারিবারিক অশান্তি ও নিঃস্ব হওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি অন্যদের এই পথ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান।
শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থী সমাজে অস্থিরতা
অনলাইন জুয়ার থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না কুলি-মজুর, ভ্যানচালক ও শিক্ষার্থীরাও। শ্রমজীবী পরিবারের নারীদের অভিযোগ, তাদের স্বামী বা সন্তানরা সারাদিনের উপার্জনের বড় অংশ মোবাইলে এমবি (ইন্টারনেট) ভরাতে ও জুয়া খেলায় ব্যয় করছে। ফলে সংসারে অভাব-অনটন ও নিত্যদিন কলহ লেগেই থাকছে। এর আগে উপজেলায় এক মেধাবী শিক্ষার্থী ‘ফ্রি ফায়ার’ গেমে আসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারানোর খবরও পাওয়া গিয়েছিল।

ঝিকরগাছায় এর আগে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আলোচিত ‘কাজলের হুন্ডি ব্যবসা’ এবং এমএলএম কোম্পানি ‘ইউনিপে টু ইউ’-এর মাধ্যমে শত শত মানুষ নিঃস্ব হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। অনলাইন ক্যাসিনোকে সেই প্রতারণারই একটি অত্যাধুনিক এবং আরও ভয়ংকর সংস্করণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনলাইন জুয়ার এই ভয়াবহতা রোধে এখনও কোনো কার্যকর প্রযুক্তিগত বা আইনি ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই ডিজিটাল ক্যাসিনো বন্ধ করা না হলে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। জনজীবন ও অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঠেকাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ঝিকরগাছাবাসী।