১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার স্মরণে আগামীকাল বুধবার (২৫ মার্চ) সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি পালন করা হবে। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির সময়সূচি ও নির্দেশনা
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এই প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কার্যকর থাকবে। তবে জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআইভুক্ত এলাকা), জরুরি সেবা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘গণহত্যা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে ২৫ মার্চ রাতে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না।
এছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আগেই জানিয়েছেন যে, এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। গত ৮ মার্চ সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এই কৃচ্ছ্রসাধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ইতিহাসের জঘন্যতম সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই রাতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ পুরো রাজধানীজুড়ে নিরীহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই প্রতিবছর এই দিনটি ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।





















