০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রণক্ষেত্র শান্তিগঞ্জ: দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট, আহত ১৫

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৩১

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার পাথারিয়া বাজার এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্ট নিয়ে গাজীনগর গ্রামের মনির মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য রোববার রাত ৯টার দিকে পাথারিয়া বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক বসে।

অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির মিয়ার সমর্থকরা আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন একটি মিনি মার্কেটে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি রেস্তোরাঁ (বারাকাত রেস্টুরেন্ট), একটি দোকান (রেহান স্টোর) এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
আঙ্গুর মিয়ার দাবি, হামলাকারীরা দোকানপাট থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে এসে প্রতিরোধ গড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
হতাহতের খবর
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে:
* আঙ্গুর মিয়ার পক্ষে: আতাউর (২৯), জাবেদ (২০) ও ইউনুস (২৪) গুরুতর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
* মনির মিয়ার পক্ষে: মোহাম্মদ আলি (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং লিল মিয়া (৪০) ও মাহবুব আলিকে (১৮) দিরাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
পরিস্থিতি চরম অবনতি হলে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে, যাদের সোমবার ভোরে শান্তিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলিউল্লাহ জানান, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি।

সর্বাধিক পঠিত

অসুস্থ নেতাকে দেখতে হাসপাতালে আতিকুজ্জামান সনি,

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রণক্ষেত্র শান্তিগঞ্জ: দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট, আহত ১৫

আপডেট: ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে উপজেলার পাথারিয়া বাজার এলাকায় এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া পোস্ট নিয়ে গাজীনগর গ্রামের মনির মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য রোববার রাত ৯টার দিকে পাথারিয়া বাজারে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক বসে।

অভিযোগ রয়েছে, সালিশ চলাকালেই দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির মিয়ার সমর্থকরা আঙ্গুর মিয়ার মালিকানাধীন একটি মিনি মার্কেটে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি রেস্তোরাঁ (বারাকাত রেস্টুরেন্ট), একটি দোকান (রেহান স্টোর) এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
আঙ্গুর মিয়ার দাবি, হামলাকারীরা দোকানপাট থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আঙ্গুর মিয়ার সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে এসে প্রতিরোধ গড়লে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
হতাহতের খবর
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে:
* আঙ্গুর মিয়ার পক্ষে: আতাউর (২৯), জাবেদ (২০) ও ইউনুস (২৪) গুরুতর আহত অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
* মনির মিয়ার পক্ষে: মোহাম্মদ আলি (৪৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং লিল মিয়া (৪০) ও মাহবুব আলিকে (১৮) দিরাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ
পরিস্থিতি চরম অবনতি হলে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যৌথ বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে, যাদের সোমবার ভোরে শান্তিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলিউল্লাহ জানান, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধের জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আটককৃতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি।