ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে গঙ্গা নদীতে নৌকায় ইফতার মাহফিল আয়োজন এবং মুরগির বিরিয়ানি খাওয়ার অভিযোগে ১৪ জন মুসলিম ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ‘ডেকান হেরাল্ড’ ও ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত সোমবার (১৬ মার্চ) গঙ্গা নদীতে একটি নৌকায় ইফতার আয়োজনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নৌকায় বসে ইফতার করছেন এবং খাবার গ্রহণ করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি যুব শাখার নগর সভাপতি রজত জয়সওয়াল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়বস্তু
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে:
* গঙ্গা নদী হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র, সেখানে মাংসাহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে।
* ওই ব্যক্তিরা মাংসের উচ্ছিষ্ট অংশ পবিত্র গঙ্গা নদীতে ফেলেছেন।
* এই কাজের মাধ্যমে জনউপদ্রব সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উপাসনালয় অপবিত্র করা, ধর্মীয় বিশ্বাসকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবমাননা করা এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে ‘পানি (দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন’ এর আওতায় মামলা দেওয়া হয়েছে।
তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই গ্রেফতারের ঘটনায় ভারতে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন:
> “ধর্মীয় পরিচয় কি খাদ্যাভ্যাসের নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়? আইনত গঙ্গার ওপর চিকেন খাওয়ার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা যায় না।”
>
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাদ্যাভ্যাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে আইনের ‘পক্ষপাতমূলক প্রয়োগ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।





















