০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেনাপোলে মিজানুর হত্যা রহস্য: সিসিটিভি ফুটেজে রোমাঞ্চকর তথ্য থাকলেও ৩ বছরেও খোলেনি জট

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ৬১৫

বেনাপোল বেনাপোল পোর্ট থানার আলোচিত ভ্যানচালক মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো উন্মোচিত হয়নি প্রকৃত রহস্য। সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর সব অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নিহতের পরিবারের অসংলগ্ন বক্তব্য থাকলেও মামলার তদন্তে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ, আর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৬-৭ মিনিট আগে মিজানুর রহমান আহমেদ আলী নামে এক ব্যক্তির সাথে কথা বলছিলেন। ঠিক তার কিছু সময় পরেই মিজানের গলা কেটে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে শোনা গেছে, নিথর হওয়ার আগে মিজানের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ চলাকালীনই ঘরের কোলাপসিবল গেট ভেতর থেকে টানার শব্দ পাওয়া যায়।
তদন্তে উঠে আসা কয়েকটি রহস্যজনক পয়েন্ট:
: ভ্যানচালক মিজানুরকে ডাকতে আসলে তার স্ত্রী ফিরোজা ভেতর থেকে কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাইরে খুনের ঘটনা ঘটলে ভেতর থেকে তালা লাগালো কে?
: হত্যাকাণ্ডের আগের দিন দুপুরে মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টির সাথে মিজানের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়ে তার বাবাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এমনকি ঘটনার রাতে রাত ১টার দিকে বৃষ্টির কান্নার আওয়াজও সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়েছে।
: এলাকাবাসীর দাবি, ওই বাড়িতে নিয়মিত এক ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো পরকীয়া প্রেম বা পারিবারিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে ধুম্রজাল।

ফুটেজ অনুযায়ী, মিজানকে তার ঘরের মাত্র তিন গজের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভিতে শোনা গেছে, মিজানের মৃত্যুযন্ত্রণা শেষ হওয়ার পরপরই কেউ একজন অন্য কারো উদ্দেশ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। অথচ নিহতের স্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি সে সময় জেগেই ছিলেন। মাত্র ৬-৭ মিনিটের ব্যবধানে ঘরের সামনে লাশ পড়ে থাকলেও পরিবারের তিন সদস্য কিছুই জানেন না বলে দাবি করছেন, যা পুলিশের কাছেও সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হওয়ায় বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক ওসি রাসেল মিয়াকে ক্লোজ করা হয়েছিল। এরপর আরও দুইজন ওসি আসলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এস আই মানিক সাহা বলেন:
> “মিজান হত্যা মামলার রহস্যের এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

যেখানে মেইন গেট ও কোলাপসিবল গেট উভয়ই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, সেখানে বাইরের কেউ এসে খুন করে চলে যাওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? কেন পরিবারের সদস্যদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না?—এমন সব প্রশ্নে উত্তাল বেনাপোল।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

বেনাপোলে মিজানুর হত্যা রহস্য: সিসিটিভি ফুটেজে রোমাঞ্চকর তথ্য থাকলেও ৩ বছরেও খোলেনি জট

আপডেট: ১১:২৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বেনাপোল বেনাপোল পোর্ট থানার আলোচিত ভ্যানচালক মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো উন্মোচিত হয়নি প্রকৃত রহস্য। সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর সব অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং নিহতের পরিবারের অসংলগ্ন বক্তব্য থাকলেও মামলার তদন্তে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ, আর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল?
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৬-৭ মিনিট আগে মিজানুর রহমান আহমেদ আলী নামে এক ব্যক্তির সাথে কথা বলছিলেন। ঠিক তার কিছু সময় পরেই মিজানের গলা কেটে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে শোনা গেছে, নিথর হওয়ার আগে মিজানের শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ চলাকালীনই ঘরের কোলাপসিবল গেট ভেতর থেকে টানার শব্দ পাওয়া যায়।
তদন্তে উঠে আসা কয়েকটি রহস্যজনক পয়েন্ট:
: ভ্যানচালক মিজানুরকে ডাকতে আসলে তার স্ত্রী ফিরোজা ভেতর থেকে কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসেন। প্রশ্ন উঠেছে, বাইরে খুনের ঘটনা ঘটলে ভেতর থেকে তালা লাগালো কে?
: হত্যাকাণ্ডের আগের দিন দুপুরে মেয়ে ফাতেমা খাতুন বৃষ্টির সাথে মিজানের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মেয়ে তার বাবাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এমনকি ঘটনার রাতে রাত ১টার দিকে বৃষ্টির কান্নার আওয়াজও সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়েছে।
: এলাকাবাসীর দাবি, ওই বাড়িতে নিয়মিত এক ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো পরকীয়া প্রেম বা পারিবারিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে ধুম্রজাল।

ফুটেজ অনুযায়ী, মিজানকে তার ঘরের মাত্র তিন গজের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভিতে শোনা গেছে, মিজানের মৃত্যুযন্ত্রণা শেষ হওয়ার পরপরই কেউ একজন অন্য কারো উদ্দেশ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। অথচ নিহতের স্ত্রী দাবি করেছেন, তিনি সে সময় জেগেই ছিলেন। মাত্র ৬-৭ মিনিটের ব্যবধানে ঘরের সামনে লাশ পড়ে থাকলেও পরিবারের তিন সদস্য কিছুই জানেন না বলে দাবি করছেন, যা পুলিশের কাছেও সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হওয়ায় বেনাপোল পোর্ট থানার সাবেক ওসি রাসেল মিয়াকে ক্লোজ করা হয়েছিল। এরপর আরও দুইজন ওসি আসলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এস আই মানিক সাহা বলেন:
> “মিজান হত্যা মামলার রহস্যের এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

যেখানে মেইন গেট ও কোলাপসিবল গেট উভয়ই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, সেখানে বাইরের কেউ এসে খুন করে চলে যাওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? কেন পরিবারের সদস্যদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না?—এমন সব প্রশ্নে উত্তাল বেনাপোল।